সেই মিতুসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলা

501

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যা করা চিকিৎসক মোস্তফা মোরশেদ আকাশের স্ত্রী তানজিলা হক চৌধুরীসহ ৬জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহতের মা। তাদের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে নগরের নন্দনকানন এলাকা থেকে তানজিলা হক মিতুকে গ্রেফতার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান।

শুক্রবার সকাল ১১টায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে সিএমপি জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়। এর আগে, চান্দগাঁও থানা পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে কথা কাটাকাটির জের ধরে স্ত্রী বাসা ছেড়ে চলে যান। ভোর ৫টার দিকে ঘরের দরজা বন্ধ করে তিনি আত্মহত্যা করেন। এর আগে ফেসবুকে অন্য পুরুষের সঙ্গে স্ত্রীর সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে আত্মহত্যার ঘোষণা দেন এই তরুণ চিকিৎসক।চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. হামিদ জানান, আকাশকে গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ইনসুলিনের সুইচ ব্যবহার করে তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তানজিলা চৌধুরী মিতুর সঙ্গে আট বছর প্রেম করে ২০১৬ সালে বিয়ের পিড়িতে বসেন আকাশ। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক এবং নগরীর থ্রি ডক্টরস কোচিংয়ের অন্যতম উদ্যেক্তা ও জনপ্রিয় শিক্ষক ছিলেন। ডা. আকাশের ফেসবুকে দেওয়া সর্বশেষ স্ট্যাটাস থেকে জানা যায়, ২০০৯ সাল থেকে তানজিলা হক মিতু নামের একজনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ২০১৬ সালে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের আগে পরে অন্য তরুণের সঙ্গে মিতুর সম্পর্কের জেরে দুজনের সম্পর্কে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়। স্ত্রীর প্রতি গভীর ভালোবাসার পরও দীর্ঘ প্রচেষ্টায় স্ত্রীকে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে আকাশ আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে সর্বশেষ স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন।

‘মৃত্যুর জন্য বউই দায়ী’ দাবি করে স্ট্যাটাসে ডা. আকাশ বলেন, ‘তাঁকে আমি ১০০% ভালোবেসেছি।’ আত্মহত্যার আগে স্ত্রীকে জড়িয়ে ডা. আকাশের দেওয়া ফেসবুক স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে দেওয়া হলো- ‘আমার সাথে তানজিলা হক চৌধূরী মিতুর ২০০৯ সাল থেকে পরিচয়, প্রচণ্ড ভালবাসি ওকে। ও নিজেও আমাকে অনেক ভালবাসে আমরা ঘুরে বেড়াই, প্রেম করে বেড়াই, আমাদের ভালবাসা কম বেশি সবাই জানে। অনেকে বউ পাগলাও ডাকতো। ২০১৬ তে আমাদের বিয়ে হয়, বিয়ের কয়েকদিন আগে জানতে পারি কিছুদিন আগে শোভন নামে চুয়েটের ০৮ ব্যচের এক ছেলের সাথে ও হোটেলে রাত কাটায় আর কত কি লজ্জা লাগছে সব লিখতে। ততদিনে সবাইকে বিয়ের দাওয়াত দেওয়া শেষ। আমাকে যেহেতু চট্রগ্রামের সবাই চিনে তাই বিয়ে কেনসেল করতে পারিনি লজ্জাতে। ওর মোবাইলে দেখি ভাইবারে দেখতে পাই মাহবুব নামে কুমিল্লা মেডিকেলের ব্যচম্যটের সাথে হোটেলে সেক্সের শতশত ছবি। আমিতো বেঁচে থেকেও মৃত হয়ে গেলাম। তারপর ক্ষমা চাইল শবে কদরের রাতে কান্না করে পা ধরে আর কখনো এমন হবে না। আমিও ক্ষমা করে দিয়ে ১ বছর ভালভাবেই সংসার করলাম। তারপর ও দেশের বাইরে আমেরিকা গেল মাঝখানে একবার ঈদ পালন করতে আসল, সেপ্টেম্বরে ২০১৮ আবার চলে গেল ইউএস। এমএলই এর প্রিপারেশন নিচ্ছিল সাথে ফেব্রুয়ারীতে ২০১৯ এ আমার ইউএস এ যাওয়ার কথা। জানুয়ারি ২০১৯ জানতে পারি ও রিগুলার ক্লাবে যাচ্ছে মদ খাচ্চে প্যটেল নামে এক ছেলের সাথে রাত কাটাচ্ছে। আমি বারবার বলছি আমাকে ভাল না লাগলে ছেড়ে দাও কিন্তু চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমার ভালবাসা সবসময় ওর জন্য ১০০% ছিল। আমি আর সহ্য করতে পারিনি। আমাদের দেশেতো ভালবাসায় চিটিং এর শাস্তি নেই। তাই আমিই বিচার করলাম আর আমি চির শান্তির পথ বেচে নিলাম। তোমাদেরও বলছি কাউকে আর ভাল না লাগলে সুন্দর ভাবে আলাদা হয়ে যাও চিট করনা মিথ্যা বলনা। আমি জানি অনেকে বিশ্বাস করবে না এত অমায়িক মেয়ে আমিও এসব দেখে ভালবেসেছিলাম। ভিতর বাহির যদি এক হত। সবাই আমার দোষ দিবে সবকিছুর জন্য তাই ব্যখ্যা করলাম। আমার শাশুড়ী এর জন্য দায়ী এসবের জন্য, মেয়েকে আধুনিক বানাচ্ছে। একটু বেশি বানিয়ে ফেলেছে। উনি চাইলে এখনো সমাধান হত। ও মা তুমি মাফ করে দিও তোমার স্বপ্ন পূরন করতে পারলাম না। মায়ের ভালবাসার কখনো তুলনা চলে না। বারবার বলছি ভাল না লাগলে আলাদা হয় যাও চিট করনা, মিথ্যা বলনা বিশ্বাস ভাঙ্গিওনা। হাজার হাজার ছবি আছে আরো খারাপ খারাপ দিলামনা যারা বিলিভ করবে এতেই করবে, না করলে নাই।

এই ৯ বছরে বয়ফ্রেনড স্বামী স্ত্রীর মত আবার সাথে সবি করে গেল। ও আমাকে আর কি ভালবাসল? কিসের বিয়ে করল? আমি শেষ পর্যন্ত চাইছি সব চুপ রেখে সমাধান করে অকে নিয়ে থাকতে। আমার শশুড় আর শাশুড়ীকে বারবার বলছি উনারা সমাধান করতে পারত! আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী আমার বউ ৯টা বছর যাকে ১০০% ভালবাসছি, ওকে প্ররোচণা দিছে মইন মিথি নামে দুই ফ্রেন্ড ওর মা বাবা আমাকে মানসিক কষ্ট দিয়ে মারছে। আমাই এই বেঈমানি মেনে নিতে পারিনাই। তারপর ও ভুলে আমি সুন্দর সংসার করতে চাইছি আমার শাশুড়ি-শশুর আর বউ নামের কলংক করতে দিলনা। আমাকে প্রতি নিয়ত প্রেশার দিয়ে গেছে আমার বউ আমার মার নামে যা তা যা তা বলে গেছে। আমাকে ভাল না লাগ্লে ছেড়ে চলে যাইতে বলছি ১০০ বার। আমি বোকা ছিলাম তুমি সুখে থেক। অনেকে ওর ফ্যান বিলিভ করবেনা আমি জানি তবে এটাই সঠিক মরার আগে কেউ মিথ্যা বলেনা আর বাইরে থেকে মানুশের ভিতরের চেহারা বুঝা যায় না। ও সুন্দরী, পড়াই ভাল, গান পাড়ে সত্য কিন্তু ও ভাল অভিনেত্রী ভাল চিটার। যাদের ঈচ্ছা বিলিভ কবে যাদের ঈচ্ছা নাই করবে না। তবে কাউকে ভালবেসে চিটার গিরি করনা।’