বুড়িগঙ্গার তীরে চলছে সবচেয়ে বড় উচ্ছেদ অভিযান…

295

ঢাকার বুড়িগঙ্গা নদীর দুই প্রান্তে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান শুরু করেছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল কর্তৃপক্ষ-বিআইডব্লিউটিএ।
প্রথম দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ভাঙা হয়েছে ২টি ৭ সাত ও ২টি ৫ তলা ভবনসহ ১৬৪টি স্থাপনা। নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পরপরই এতবড় অভিযানে নামল নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।ফেব্রুয়ারির মধ্যভাগ পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলবে। কর্মসূচির আকার বাড়তে পারে। টাস্কফোর্সের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও এসব প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে অভিযান না চালানোয় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল পরিবেশবাদীসহ রাজধানীবাসীর। মঙ্গলবার সকালে কেরানীগঞ্জের খোলামোড়া ঘাটের বিপরীতে এই উচ্ছেদ অভিযান চলে।জানা যায়, নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরীর নির্দেশে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ঢাকার চারপাশের সব নদী ও খাল রক্ষায় এই ক্রাশ প্রোগ্রাম চলবে। উচ্ছেদের পর ফের দখল ঠেকাতে নদীর তীরে বনায়নের একটি প্রকল্পও হাতে নেয়া হয়েছে।

আর অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থাও নেয়া হবে। তিনি বলেন, যত বড় প্রভাবশালীই হোক না কেন; এবারের কর্মসূচিতে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে নদী বাঁচলে বাংলাদেশ বাঁচবে।মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অভিযান চলে। এ সময় ২টি ৭ তলা, ২টি ৫ তলা, ৩টি দুই তলা, ৪টি একতলা পাকা ভবনসহ ১৬৪টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।বিআইডব্লিউটিএ’র নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে এই উচ্ছেদ অভিযান চলবে। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিএ’র পরিচালক (বন্দর) শফিকুল হক, যুগ্ম পরিচালক একেএম আরিফ উদ্দিন, উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান, সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম, নূর হোসেন স্বপন ও আসাদুজ্জামান মিয়া। পুলিশ, নৌ-পুলিশ, আনসার সদস্য ও শতাধিক শ্রমিক উচ্ছেদ অভিযানে সহায়তা করে।

বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক মো. আরিফুর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খোলামোড়া ঘাট বরাবর একটি অবৈধ সাততলা ভবন আংশিক ভাঙা হয়।আশপাশে কিছু ছোট স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হয়। বিকালে খোলামোড়া ঘাট এলাকায় নদীর তীরে গড়ে ওঠা ছোট কিছু স্থাপনা ভেঙে দেয়া হয়।ঢাকা নদী বন্দরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান,প্রাথমিকভাবে বুড়িগঙ্গা তীরের ছয় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব উচ্ছেদের জন্য ১১ দিনের একটি ক্রাশ প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে।এর অংশ হিসেবে প্রথম দিন কয়েকটি বহুতল ভবন, আধাপাকা ভবন, ঝুপড়িঘর, টং দোকান গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। এটি নিকট অতীতের সবচেয়ে বড় অভিযান হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।সকাল ৯টায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কালীগঞ্জ তেলঘাট এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। চলে খোলামোড়া এলাকা পর্যন্ত।আজ বুধবার ও আগামীকাল ওয়াইজঘাট এলাকা থেকে শুরু হয়ে সোয়ারীঘাট ও কামরাঙ্গীর চরের নবাবচর পর্যন্ত অভিযান চলবে। এখানেও ভাঙা পড়বে অনেকগুলো পাকা-আধাপাকা স্থাপনা।

কিছু দিন বিরতি দিয়ে ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেলের মুখে। কামরাঙ্গীর চরের ঠোঁটা নামে পরিচিত এই এলাকা থেকে উচ্ছেদ অভিযানটি চলবে লোহারপুল পর্যন্ত। এতে রিকশা ভ্যানের গ্যারেজসহ কয়েকটি স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে।
টাস্কফোর্সের সুপারিশ থাকা সত্ত্বেও এসব প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে অভিযান না চালানোয় দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ ছিল পরিবেশবাদীসহ স্থানীয়দের।৭ ফেব্রুয়ারি উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে মোহাম্মদপুর ও হাজারীবাগ থানা এলাকার বুড়িগঙ্গা ও তুরাগ তীরে। কাটাসুর হাউজিং এলাকা থেকে শ্রীখণ্ড পর্যন্ত এ অভিযানে ভাঙা পড়বে কয়েকটি বহুতল ভবন।১২ ফেব্রুয়ারি শ্যামপুর এলাকা থেকে খোলামোড়া লঞ্চঘাট পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি মিরপুর বড়বাজার এলাকা থেকে শুরু করে আবারও কাটাসুর আমিন মোমিন হাউজিং পর্যন্ত অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।জটিলতা কাটেনি নদীতীরে ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে : ঢাকার চারপাশের নদ-নদীর তীরে গড়ে ওঠা ধর্মীয় স্থাপনাগুলো অপসারণ বা স্থানান্তর নিয়ে জটিলতা কাটেনি।অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ওয়াকওয়ে নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মসজিদসহ ৪৫টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখছে সরকার।ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সমাধানে পৌঁছাতে নদী রক্ষা সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের কয়েকটি বৈঠকে বিষয়টি আলোচিত হলেও এ পর্যন্ত কোনো আলোচনাই ফলপ্রসূ হয়নি। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বিকল্প স্থানে সরিয়ে নিতে কমিটির নেতাদের অনুরোধ জানিয়ে আসছে সরকার। এজন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দেয়ার কথাও বলা হয়েছে।