বিনামূল্যে ইন্টারনেট পাবেন ২৭০০ ইউনিয়নের মানুষ

588

বিনামূল্যে ইন্টারনেট পাবেন- দেশের ২ হাজার ৭০০টি ইউনিয়নে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা দিতে কানেক্টিভিটি বা সংযোগ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। এখন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ একমত হলে ইউনিয়গুলো থেকে গ্রামে গ্রামে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে। যদি ট্রান্সমিশন (ব্যান্ডউইথ পরিবহন) খরচ না নেওয়া হয় তাহলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৩ মাস বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেবে। তবে এরপর ইন্টারনেটের খরচ গ্রামবাসীকে বহন করতে হবে। প্রসঙ্গত, সরকারের আইসিটি বিভাগের ইনফো সরকার-৩ প্রকল্পের আওতায় দেশের ইউনিয়নগুলোতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি-বেরকারি অংশীদারত্বে (পিপিপি) মডেলে এই কাজটি করেছে আইসিটি বিভাগ ও নেশনওয়াইড ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক বা এনটিটিএন (মাটির নিচ দিয়ে তৈরি ক্যাবল সংযোগ) প্রতিষ্ঠানগুলো।
জানা গেছে, দেশের ২ হাজার ৭০০টি ইউনিয়নে এরই মধ্যে কানেক্টিভিটি তৈরির কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। আগামী জুনের মধ্যে এই প্রকল্পের বাকি কাজ শেষ হওয়ার কথা।
সম্প্রতি এই সেবাদানের বিষয়ে আইসিটি বিভাগে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে আইসিটি বিভাগ, এনটিটিএন প্রতিষ্ঠান এবং আইএসপি অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে ইউনিয়নগুলো থেকে ‘ক্যাপাসিটি’ সরবরাহের কথা বলা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক সংশ্লিষ্টদের ৩ মাস বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবাদানের আহ্বান জানান। এই আহ্বানে আইএসপিগুলো সাড়া দিলেও এনটিটিএনগুলো এখনও ইতিবাচক কোনও সাড়া দেয়নি। এনটিটিএনগুলো ইতিবাচক সাড়া দিলে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নগুলো থেকে প্রয়োজনীয় সব জায়গায় বিনা খরচে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে আইএসপিগুলো। বৈঠক সূত্র আরও জানায়, প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, এই সেবার ক্ষেত্রে ‘লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি’ (ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে চূড়ান্ত ব্যবহারকারীদের কাছে) দেবে আইএসপিগুলো। এই ঘোষণার ফলে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর আর এই সেবা দেওয়া হবে না, আইএসপিগুলোই দেবে। জানতে চাইলে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমরা বৈঠকে বলেছি, এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলো যদি কোনও ট্রান্সমিশন খরচ না নেয় তাহলে আমরা ‘টেস্ট রান’ ভিত্তিতে ৩ মাস বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেবো। আমরা স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সরকারি অফিস, পাঠাগার, ইউনিয়ন ডিজটাল সেন্টার (ইউডিসি) ইত্যাদিতে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেবো।’ ইমদাদুল হক জানান, টেস্ট রান বা পরীক্ষামূলক ব্যবহার সফল হলে তারা পরিপূর্ণভাবে সেবা দিতে প্রস্তুতি নেবেন। তিনি জানান, টেস্ট রানের সময় কোনও ধরনের সমস্যা আছে কিনা, জটিলতাগুলো কী কী, তা নির্ধারণ করা যাবে এবং পরে তা সমাধান করে নিরবছিন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নগুলোতে ২০ জিবিপিএস (গিগা বিটস পার সেকেন্ড) ব্যান্ডউইথ এখন রেডি অবস্থায় রয়েছে। এখান থেকে ক্যাপাসিটি নিয়ে আইএসপিগুলো সেবা দিতে পারবে। বিনামূল্যে সেবা দেওয়ার পরে ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষকে কত খরচ করতে হবে তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। ইন্টারনেটের দাম নির্ধারণ করাও জরুরি বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বরাবরই দাবি রয়েছে, গ্রামের ঢাকার দামে ইন্টারনেট। এটা বাস্তবায়ন করা যাবে কিনা তা নিয়েও চলছে বিশ্লেষণ। ঢাকার দামে গ্রামে ইন্টারনেট দিতে গেলে কী কী বাধা আসতে পারে তা-ও বিবেচনায় রয়েছে সংশ্লিষ্টদের। সে ক্ষেত্রে সবার আগে এনটিটিএন প্রতিষ্ঠানগুলোর ট্রান্সমিশন চার্জ কমানোর ইস্যুটি সবার আগে চলে আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। ‍

যেভাবে জানবেন আইডিতে কয়টি সিম নিবন্ধিত হয়েছে: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে অজান্তে কেউ বাড়তি সিম নিবন্ধন করে নেয়নি তো! কিভাবে জানবেন? কোন অপারেটরের কয়টি সিম বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত হয়েছে, সহজেই জানানোর ব্যবস্থা করেছে কয়েকটি অপারেটর। এখন পর্যন্ত চারটি মোবাইল অপারেটর এ সুবিধা চালু করেছে। একজনের আঙুলের ছাপ একাধিকবার নিয়ে গোপনে অন্যজনের সিম নিবন্ধন হয়েছে, এমন খবর প্রকাশের পর গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর পরই মোবাইল অপারেটররা এক এনআইডির অধীনে কতগুলো সিম নিবন্ধন হয়েছে, তা গ্রাহকদের এসএমএস করে জানিয়ে দিয়েছে। যারা এই এসএমএস পাননি, তাঁরা চাইলে এসএমএস কিংবা ডায়াল করে জেনে নিতে পারেন। গ্রামীণফোন : info লিখে ৪৯৪৯ নম্বরে এসএমএস করুন। বাংলালিংক : *১৬০০*২# নম্বরে ডায়াল করুন। রবি : *১৬০০*৩# নম্বরে ডায়াল করুন। এয়ারটেল : ডায়াল করুন *১২১*৪৪৪৪# নম্বরে। একজনের নামে ২০টির বেশি সিম নিবন্ধিত থাকলে অতিরিক্ত সিম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও এসএমএস করে গ্রাহকদের জানানো হয়েছে। অপারেটরগুলোর গ্রাহক সেবাকেন্দ্র থেকে বাড়তি বা অপ্রয়োজনীয় সিম বন্ধ করা যাবে। দেশে আগামী বছরেই (২০২০ সাল) পঞ্চম প্রজন্মের ইন্টারনেট বা ফাইভজি ইন্টারনেট সেবা চালু হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার আমিনুল হাসান। বুধবার বিটিআরসি ভবনে টেলিকম রিপোটার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের (টিআরএনবি) সদস্যদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। আমিনুল হাসান আরো বলেন, ২০২০ সালে সরকার মোবাইল অপারেটরগুলোকে এই লাইসেন্স দেওয়া শুরু করবে। বাঁধাহীনভাবে ফাইভজি সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে মোবাইল অপারেটগুলোকে এই বছর অনেক বেশি কাজ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ দেশে ফোর-জি চালু হয়। এর আগে ২০১৩ সালে চালু হয় থ্রি-জি নেটওয়ার্ক। গত বছরের ২৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের উপস্থিতিতে দেশে প্রথম ফাইভ-জি টেস্ট করা হয়। সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও মোবাইল অপারেটর রবি এবং টেলিকম ভেন্ডর ওয়াওয়ে এই টেস্ট রানের আয়োজন করেছিল। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে এটিই ছিল প্রথম ফাইভ-জি টেস্ট।