বছরের শুরুতেই প্রাথমিকে নিয়োগ হবে ৬৫ হাজার ‘হিসাব রক্ষক’

1926

প্রাথমিকে নিয়োগ হবে- ‘হিসাবরক্ষক’ পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এই প্রক্রিয়া শেষে সারা দেশে একসঙ্গে ৬৫ হাজার বিদ্যালয়ে হিসাবরক্ষক কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. গিয়াস উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘হিসাবরক্ষকের পদ সৃষ্টির নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে পাঠদান ও তদারকিতে আরও সক্রিয় করতে একজন হিসাবরক্ষক থাকা প্রয়োজন। এ ব্যাপারে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে বিদ্যালয়ের সব ধরনের হিসাব সংরক্ষণ ও পরিচালনাসহ দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড এককভাবে প্রধান শিক্ষককে করতে হয়। এর বাইরে সরকারের নানা ধরনের নির্দেশনামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কারণে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ের পাঠদান পরিচালনা, তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সঠিকভাবে করতে পারছেন না। তাই প্রধান শিক্ষককে পাঠদানে আরও মনোনিবেশ করাতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সারা দেশে বর্তমানে ৬৫ হাজার ৯৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে পুরনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬৭২টি, বিদ্যালয়বিহীন গ্রামে ১ হাজার ২০৭, নতুন জাতীয়করণ করা ২৬ হাজার ১৫৯ ও পরীক্ষণ বিদ্যালয় ৬১টি। প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে হিসাবরক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে।
কবে নাগাদ এই নিয়োগ দেওয়া হতে পারে এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানায়, পদ সৃজন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেশ সময় লাগবে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চলতি অর্থবছরে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হবে বলে জানান কর্মকর্তারা। শ্রমিকদের বেতন কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় শ্রমিকদের নতুন বেতন কাঠামোর অসঙ্গতি দূর করতে শ্রমিকপক্ষের পাঁচজন, মালিকপক্ষের পাঁচজনসহ শ্রম ও বাণিজ্য সচিবের সমন্বয়ে গঠিত কমিটি কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সী। বেতন কাঠামোতে বৈষম্য দূর করাসহ বিভিন্ন দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে আন্দোলন করছেন পোষাক শ্রমিকরা। এরই প্রেক্ষিতে আজ বুধবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মন্ত্রী।তিনি বলেন, মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব নেয়ার পর পোষাক শ্রমিক এবং গার্মেন্টস মালিকপক্ষের সংগঠন একত্রে টানাপোড়েন নিরসন দূর করা হবে আমার প্রথম ধাপ। আশা করা হচ্ছে, আগামী ১ মাসের মধ্যে কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গার্মেন্টস শ্রমিকদের বেতনের বিষয়ে আর কোনও সমস্যা থাকবে না। বাণিজ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এই ধরনের আন্দোলনে অনেক সময় বাইরের লোক ঢুকে যায়। সে বিষয়টি আমরা কঠোরভাবে মনিটর করবো। এসময় উপস্থিত ছিলেন- বাণিজ্যমন্ত্রী সচিব মফিজুল ইসলাম, মন্ত্রীর একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, জনসংযোগ কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ বকসীসহ প্রমুখ। পাবনায় মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে কম্বল বিতরণ, পাবনা জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ড ও সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ডের উদ্যোগে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধার মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার বিকালে সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কমান্ড কার্যালয় থেকে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুদানকৃত এসব কম্বল বিতরণ করা হয়।
এ সময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ পাবনা জেলা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার (১) বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল বাতেন, আব্দুল লতিফ সেলিম (২), সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের সাবেক কমান্ডার আলহাজ্ব আবুল কাশেম বিশ্বাস, হাবিবুর রহমান রঞ্জু, আলহাজ্ব দেওয়ান ওমর ফারুক, শহিদুল ইসলাম, আব্দুল জলিল শেখ, আব্দুল মুন্নাফ, রুস্তম আলী, আব্দুস সামাদ, মহরম আলীসহ জেলার বিভিন্ন ইউনিটের মুক্তিযোদ্ধাগণ উপস্থিত ছিলেন।
‘আইন সংশোধন করেই বিচার হবে জামায়াতে ইসলামীর’ মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য আইন সংশোধন করে সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচার করা হবে। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পাওয়ার পর বুধবার (৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আইন সংশোধন করে জামায়াতের বিচার করা হবে। এ সংক্রান্ত আইনটি অধিকতর যাচাই বাছাই ও মতামতের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি পেলে মন্ত্রিপরিষদ সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। এ সময় বঙ্গবন্ধু এবং জাতীয় চার নেতা হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ব্যক্তিদেরও বিচারের আওতায় আনা হবে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে হত্যার নেপথ্যে যারা রয়েছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে। এ জন্য বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের হয়রানি করার জন্য ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন করা হয়নি। যারা প্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে তার অপব্যবহার করবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই এই আইন। প্রসঙ্গত, মুক্তিযুদ্ধে বিতর্কিত ভূমিকার জন্য বিভিন্ন সময় সংগঠন হিসেবে জামায়াতের বিচারের দাবি উঠে। ইতোমধ্যে দলটির সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতা মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড পেয়েছেন।
নাটোরে বোর্ডের খাতা জালিয়াতির অভিযোগে শিক্ষক আটক: বাংলাদেশ কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষার খাতা জালিয়াতির অভিযোগে মাহামুদুন্নবী মিলন নামে নাটোরের একটি বেসরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার দুপুরে শহরের বলারিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। আটক মাহামুদুন্নবী মিলন একই এলাকার মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম মতুর্জা জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের বলারিপাড়া এলাকায় চাকরিচ্যুত কারিগরি শিক্ষক মাহামুদুন্নবী মিলনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় ওই বাড়ি থেকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের ৩৭০টি পরীক্ষার খাতা জব্দ করাসহ শিক্ষক মিলনকে আটক করা হয়। আটককৃত শিক্ষক মিলন বলেন, কারিগরি বোর্ডের পরীক্ষার খাতা থেকে টপ শিট পরিবর্তন করে ফাঁকা খাতায় উত্তর লিখে আবার টপ শিট লাগিয়ে টাকার বিনিময়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরন করতেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অভিনব কায়দায় জালিয়াতি করে আসছিলেন। এদিকে জালিয়াতির সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে বেশ কয়েকজন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আটককৃত শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে। নাটোরের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব সাইন্স এন্ড টেকনোলজি কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান টুটুল জানান, নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকায় তার প্রতিষ্ঠান থেকে কিছুদিন আগে মিলনকে চাকরিচ্যুত করা হয়।