পাগলের কথায় কাদলেন প্রেসিডেন্ট!

694

বাগদাদের রাজপ্রসাদ!চলছে খলিফা হারুনুর রশীদের যুগ ও তার শাসনামল। বাগদাদের আমীর উমারারা তখন খুব সৌখিনতা আর বিলাসিতায় দিনাতিপাত করেছে। রাজ্যের প্রজারা থাকতো শাসকদের ভয়ে। যেন খলিফার অসম্মানে কেউ কিছু বললেই খেতে হবে শত চাবুকাঘাত । সেই সুবাদে আজ এক পাগলকে পিটানো হচ্ছে শত শত চাবুক। কত বড় স্পর্ধা খলিফার রাজ সিংহাসনে বসেল। নাতার কোন ক্ষমা নেই কিছুতেই সে আজ রেহাই পাবে না পিটাও ওরে আজ ইচ্ছেমতে পিটাও। শরির ঝাঝরা করে ফেলো চাবুক মেরে। তুলে ফেলো পিটের সব চামড়া। যেন আর জীবনে কোন দিন রাজপ্রসাদের সামনে দিয়ে না আসে। ফকির কোথাকার! ”
কত বড় সাহস!

পিটের ছিড়া ফাটা পোষাকের ফাকে রক্তের লুকোচুরি যেন আজ পাগলের শরির ভিজে যাচ্ছিন। আর ভিজবে না কেন? তার পিটের সব জায়গা দিয়ে রক্ত ফিনকি দিয়ে ছুটছে পাগলের। জল্লাদ ক্লান্ত আজ। আর যে চাবুক মারতে পারছেনা। পাগলের হাউমাউ চিৎকার শুনে খলিফা বন্ধ করতে বললো চাবুক পেটা।
খলিফা বললো এভাবে চিৎকার করছেন কেন? পাগল বললো খলিফা আমিতো নিজের জন্য এভাবে কাঁদছিনা। কাঁদছি তোমার জন্য। কিহ!! আমার জন্য? হ্যাঁ – তোমার জন্য কাঁদছি। তবে কেন? বলুন। তাহলে শুনো হে খলিফা! শুনো !এই রাজাদের দরবার তো দুনিয়ার গাফেলদের জায়গা। এই শাহী গালিচায় তো পা রাখে দুনিয়ার সে সমস্ত লোক যারা দুনিয়ার ক্ষনস্থায়ী ক্ষমতার আশা রাখে। মৃতদের কিবা দরকার আছে এই রাজসিংহাসনের। আর রাজ দরবারে আসার । হে খলিফা তোমার মত কত খলিফা এই সিংহাসনের অধিকারীরা আজ মাটির সাথে আপোষ করে নিয়েছে। মাটি তোমার মত কত বাদশাহকে হাড্ডি বানিয়ে দিয়েছে। হে খলিফা হারুন —– সামান্য অল্প সময় তোমার এই সিংহাসনে বসার অপরাধে আমাকে এত মারা তুমি মারলে। আমার অপরাধ তোমার সিংহাসনে বসা। হে খলিফা সামান্য এই সময় যদি বসার অপরাধে তোমার সৈন্যরা আমাকে এত চাবুকপেটা করতে পারে তাহলে তুমি যে বছরের পর বছর এই রাজসিংহাসনে বসে আছো তোমার কি অবস্থা হবে (?!) তুমি কি জবাব দিবে ?

আচমকা শরির ঝাকুনি দিয়ে উঠলো খলিফার পাগলের কথা শুনে চোখ যেন বড় বড় হয়ে গেলো। কি (?)
ওহে — খলিফা!! হে! আমাকে সামান্য ক, মিনিট বসার অপরাধে আমার সারাটা দেহ তুমার সৈন্যরা রক্তাক্ত করে দিলো
তুমি হারুন যুগের পর যুগ যেই সিংহাসনে বসে আছো তুমি আল্লাহর সৈন্যদের থেকে আযাবের ফেরেশতাদের থেকে কিভাবে বাচবে? সেই জন্য সে কথা মনে করে
তোমার চিন্তায় আমি হাউমাউ করে কেঁদেছি। নিজের জন্য নারে খলিফা নিজের জন্য না। খলিফার চোখে পানি জমে উঠলো চোখের কোণে নিজের অজান্তেই ছুটে এলো কল্লোল ধারা। মাথা নিচু করে নিস্তব্ধ হয়ে দাড়িয়ে আছে সবাই। মনকি দরবারের অামীর উমারারাও। এ বলে নিজের রক্তাক্ত ভেজা শরির নিয়ে আস্তে আস্তে করে সোজা হয়ে দাড়ালো সেই দুনিয়াবিমুখ বুদ্ধিমান পাগল। যেন শরিরে আজ সাই দিচ্ছেনা আর দাঁড়ানোরো শক্তি পাচ্ছে না। নিজের কাঁদে বহন করা দুটো পাঞ্জাবী, আস্তিন, লোটা আর জায়নামাযের পুটলি নিয়ে পা বাড়ালো অচেনা সেই আপন অন্ধকার গৃহে। সেই মাকবারার দিকে। নির্জনাবাস কবরস্থানে। পা টেনে টেনে। —আস্তে আস্তে লেংড়িয়ে লেংড়িয়ে।