কেউ মারা গেলে চুলা জ্বালানো নিষেধ, কি বলে ইসলাম ?

1022

আল্লাহর মনোনিত ও সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম ইসলাম। শান্তির ধর্ম ইসলাম জীবনকে সহজ করেছে, দিয়েছে সবার প্রাপ্য মর্যাদা। তবে ইসলাম ধর্মের মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে আছে কুসংস্কারসহ নানান আজগুবি ধ্যান ধারনা, যেগুলো কখনো ইসলাম সমর্থন করেনা। তেমনি একটি কুসংস্কার হলো পরিবারের কেউ মারা গেলে বাড়িতে রান্না করার জন্য চুলা জ্বালানো যায় না।পরিবারের ক্মেউ মারা গেলে চুলা জ্নবালানো যায় কী-না এমন প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ড. মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ।

প্রশ্ন : পরিবারের কেই মারা গেলে পাঁচ দিন বা তিন দিন কি ওই বাড়িতে চুলা ধরানো যায় না? বলা হয় এখানে নাকি আত্মারা আসে। উত্তর : না, এগুলো কুসংস্কার। তিন দিন বা পাঁচ দিন আগুন জ্বালানো যাবে না, চুলা ধরানো যাবে না, আত্মার আগমন হবে ইত্যাদি ইত্যাদি এগুলো আমরা ভিন্ন সংস্কৃতি থেকে পেয়েছি। খুব কাছাকাছি একটা সংস্কৃতি আছে, যেখানে অনেকেই মনে করে থাকেন মানুষ মারা গেলে তার আত্মা আশপাশে ঘোরাফেরা করে। এ ধরনের বক্তব্য আমরা অন্য সংস্কৃতি থেকে নিয়েছি। এটি ইসলামী সংস্কৃতির সঙ্গে সামান্যতম মিল নেই। ইসলাম এটি কোনোভাবেই অনুমোদন দেয়নি।

### নামাজরত অবস্থায় রাকায়াত সংখ্যা ভুলে গেলে যা করবেন: আল্লাহ তায়ালার নির্দেশে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন। কিন্তু অনেকেই আছেন যারা নামাজে অধিক মনোযোগ দেয়ার জন্য অনেক সময় রাকায়াত সংখ্যা মনে থাকে না। নামাজরত অবস্থায় যদি রাকায়াত সংখ্যা ভুলে যান তাহলে আপনি কী করবেন? প্রথম রাকাত পড়লাম নাকি দ্বিতীয় রাকাত? মনের মধ্যে যদি এমন প্রশ্ন উদিত হয়, তাহলে মন যে দিকে ঝুঁকবে বা সায় দিবে তাই গ্রহণ করতে হবে। আর যদি কোনো দিকেই মন না ঝুঁকে তাহলে কম তথা এক রাকাত ধরতে হবে। তবে এই প্রথম রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে প্রকৃতপক্ষে এটাই দ্বিতীয় রাকাত। দ্বিতীয় রাকাতেও বসে তাশাহহুদ পড়বে। তৃতীয় রাকাতেও বসে তাশাহহুদ পড়বে, কেননা হতে পারে এটি চতুর্থ রাকাত। তারপর চতুর্থ রাকাতে সাজদায়ে সাহু করে নিবে। যদি সন্দেহ হয় যে, দ্বিতীয় রাকায়াত পড়লাম, নাকি তৃতীয় রাকাত? তাহলে তার হুকুমও এরূপ। যদি মন কোনো দিকে না ঝুকে তাহলে দ্বিতীয় রাকাত ধরে নিবে এবং এই রাকাতে বসে তাশাহহুদ পড়বে এবং এটা বিতর নামাজ হলে এ রাকাতেও দুয়ায়ে কুনুত পড়বে। তৃতীয় রাকাতেও বসবে। তারপর চতুর্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে। যদি সন্দেহ হয় যে, তৃতীয় রাকাত পড়লাম, নাকি চতুর্থ রাকাত? তাহলে তার হুকুম অনুরূপ। কোনো দিক মন না ঝুঁকলে তিন রাকাত ধরে নিবে। কিন্তু এই তৃতীয় রাকাতেও বসে তাশাহুদ পড়তে হবে। তারপর চতুর্থ রাকাতে সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে।

যদি নামাজ শেষ করার পর সন্দেহ হয় যে, এক রাকাত কম রয়ে গেলে কিনা? তাহলে এই সন্দেহের কোনো মূল্য নেই। নামাজ হয়ে গেছে। অবশ্য যদি সঠিকভাবে স্মরণ আসে যে, এক রাকাত কম রয়ে গেছে, তাহলে দাঁড়িয়ে আরও এক রাকাত পড়ে নিবে এবং সিজদায়ে সাহু সহকারে নামাজ শেষ করবে। কিন্তু যদি ইতোমধ্যে এমন কোনো কাজ করে থাকে যাতে নামাজ ভঙ্গ হয়ে যায় (যেমন কেবলা থেকে ঘুরে বসে থাকা বা কথা বলে থাকা) তাহলে নতুন নিয়ত বেঁধে সম্পূর্ণ নামাজ পুনরায় পড়তে হবে। আর প্রথম অবস্থায়ও নতুনভাবে নামাজ পুনরায় পড়ে নেয়া উত্তম; জরুরি নয়। শেষ কথা, উপরোক্ত কোন ব্যাখ্যা যদি আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য মনে না হয়, তাহলে আপনি নামাজ ভেঙে পুনরায় নিয়্যত করে নামাজ আদায় করবেন।