হযরত মোহাম্মদ (স.) গরুর গোস্ত সম্পর্কে যা বলেছেন জানলে অবাক হবেন……!#এমন একটি পোস্ট ফেসবুক সহ অনেক ওয়েবসাইটে ভাইরাল হয়েছে আসলে….

2639

গরুর গোশত সবারই প্রিয়। অন্যান্য ভোগযোগ্য হালাল পশুর চেয়ে গরুর চাহিদাই বেশি। একতো সহজলভ্য অন্যদিকে কড়া দাম। গরুর গোশত তাদের কাছে মজাদার ও প্রিয় যারা দুরারোগ্য ব্যাধি থেকে মুক্ত।হযরত মোহাম্মদ (স.) গরুর গোস্ত সম্পর্কে যা বলেছেন জানলে অবাক হবেন এমন একটি পোস্ট ফেসবুক সহ অনেক ওয়েবসাইটে ভাইরাল হয়েছে আসলে এইটা একটা জাল বা দুর্বল হাদিস দয়া করে সবাই সত্য টা জেনে নিবেন কোন আমেলেমের কাছ থেকে। আমরাও জানতে পারলে অবশ্যই শেয়ার করবো।হযরত মোহাম্মদ (স.) গরুর গোস্ত সম্পর্কে কিছু হাদিস আছে কিন্তু নিচের হাদিস সম্পূর্ণ জাল বা দুর্বল হাদিস হযরত হাকেম এবং আবু নাঈম (র.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, “তোমরা অবশ্যই গরুর দুধ পান করো। কেননা তাতে শিফা ( আরোগ্য) রয়েছে অনুরুপভাবে এর ঘি ভক্ষণ করো। কেননা তা শিফা দানকারী (আরোগ্য দানকারী)। তবে এর গোশত থেকে বিরত থাকো। কেননা তাতে রোগব্যাধি রয়েছে।” (সূত্র : হাশিয়া মুসনাদে ইমাম আযম) এমন অনেক হাদিস আছে যেগুলা দুর্বল বাদ জাল হাদিস অনলাইন এ অনেক নিউজ সাইট না জেনে এইসব প্রচার করছে। দয়া করে আপনারা এই সব ব্যাপারে একজন ভাল হক্কানি আলেমের কাছ থেকে জেনে নিবেন। আমরা চেষ্টা করবো সঠিক টা প্রচার করার জন্য যদি আমাদের কোন ভুল হয়ে তাহলে আমাদেরকে ইনবক্স করে সঠিক টা জানাবেন। আমরা এই ব্যাপারে আরও বিস্তারিত জেনে পোস্ট করবো। ধন্যবাদ গরুর মাংস খেলে যেসব উপকার ও ক্ষতি হয়ঃ গরুর মাংস অতি শক্তিশালী ও পুষ্টিকর একটি খাবার। এই খাদ্যের মধ্যে মজুদ পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরের বিভিন্ন উপকারে আসে। তবে পুষ্টি উপাদান বেশি হওয়ার ফলে অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে স্বাস্থ্যের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

তাই চলুন, জেনে নিই এই খাদ্যের সুফল ও কুফলগুলো। উপকারিতা বা সুফল: প্রোটিন : যা মাংসপেশিকে শক্তিশালী ও মজবুত করতে সাহায্য করে।জিংক : যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ফসফরাস : যা মজবুত হাড় ও দাঁতের জন্য জরুরি। আয়রন : যা রক্তস্বল্পতা দূরীকরণ এবং শরীরের সব কোষে অক্সিজেন সরবরাহে সাহায্য করে। এ ছাড়া গরুর মাংসের মধ্যে প্রাপ্ত বি১২, বি৬ এবং বিরোফ্রাবিন শরীরে শক্তি সরবরাহে সাহায্য করে। গরুর মাংসে অনেক রকম পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। এমনকি গরুর মাংসে এমন কিছু পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা তুলনামূলকভাবে অনেক খাবারেই কম পাওয়া যায়। ওই সব পুষ্টি উপাদানের শারীরিক চাহিদাও থাকে। আবার অতিরিক্ত পুষ্টি উপাদানের মজুদ থাকায় কখনো কখনো শরীরের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করতে পারে। তাই গরুর মাংস গ্রহণ করার ক্ষেত্রে সঠিক পরিমাণ বজায় রাখা অনেক জরুরি। সঠিক প্রস্তুত প্রণালি ও পরিমাণে গরুর মাংস খেলে তা শারীরিক বেশ কিছু উপকারে আসে।: দেখা গেছে, গরুর মাংসের আয়রন শরীরে আয়রনের ঘটতি পূরণে সহায়ক। এই মাংসের আয়রন শরীরে ভালোভাবে শোষিত হয়। আয়রনযুক্ত অনেক খাবারের তুলনায় গরুর মাংস অনেক বেশি আয়রন দিয়ে থাকে। তাই রক্তস্বল্পতা দূরীকরণে গরুর মাংস বিশেষ ভূমিকা রাখতে পারে। জিংক : অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। অনেকেই এর অভাবে ভুগে থাকেন। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা। দেখা গেছে, গরুর মাংসের জিংক শরীরে প্রায় ২৫ শতাংশ শোষিত হয়। তাই জিংকের অভাব দূরীকরণে গরুর মাংসের জুরি নেই।গরুর মাংসে প্রাপ্ত সেলেনিয়াম মানবশরীরে রোগ প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। গুরুত্বপূর্ণ এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট অনেক খাবারের তুলনায় গরুর মাংসে বেশি। গরুর মাংস প্রোটিনের অনেক ভালো উৎস। শারীরিক গঠন ও বৃদ্ধিতে ভূমিকা রয়েছে। গরুর মাংস থেকে প্রথম শ্রেণির উন্নতমানের প্রোটিন পাওয়া যায়। তিন আউন্স গরুর মাংস থেকে প্রায় ২১ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। সুস্থ মাংসপেশি গঠনে যা বিশেষ ভূমিকা রাখে। গরুর মাংসে অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড থাকে, যা ত্বকের জন্য অনেক জরুরি। কুফল: গরুর মাংসে রয়েছে কোলেস্টেরল, সোডিয়াম ও ফ্যাট, যা অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের মতো বেশি পাওয়া যায়। অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে চর্বির মাত্রা বেড়ে যেতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষ করে গরুর মাংসের ঝোল বা স্টক থেকে প্রচুর সম্পৃক্ত চর্বি পাওয়া যায়, যা রক্তনালিতে জমে এথেরোসক্লেরসিস ঘটাতে পারে। যা থেকে পরবর্তীকালে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। গরুর মাংসের অতিরিক্ত সোডিয়াম শরীরের জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ সৃষ্টিতে বা বাড়াতে সোডিয়াম সাহায্য করে। তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস ঘন ঘন খেলে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে, যা হৃদরোগ, স্ট্রোক বা কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, যা থেকে পরবর্তীকালে আরো অনেক রোগের ঝুঁকি বাড়ে। গরুর মাংস প্রথম শ্রেণির প্রোটিনের ভালো উৎস। তাই অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে তা থেকে প্রাপ্ত প্রোটিন কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এ ছাড়া অতিরিক্ত গরুর মাংস খেলে রক্তে ইউরিক এসিডের মাত্রা বেড়ে যায়।যেকোনো খাবারের ভালো-খারাপ দুটো দিকই থাকে। অতিরিক্ত খেলে অতিরিক্ত পুষ্টি পাওয়া যায়, আবার কম খেলে পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি থাকে। তাই সুস্থ থাকার লক্ষ্যে সবাইকে সুষম খাবারের পরামর্শ দেওয়া হয়। সব রকম খাদ্যই স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে রান্না করে পরিমাণ বজায় রেখে খেলে যেকোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে সুস্থ থাকা সম্ভব।লেখক : প্রধান পুষ্টিবিদ, অ্যাপোলো হাসপাতাল।

এনটিভি অনলাইনআরও পড়ুনঃ মৃত্যুকালে রাসূল – হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের শেষ মূহুর্তঃমৃত্যুকালে রাসূল – হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর জীবনের শেষ মূহুর্ত চলছে। ‘ঠিক সে সময় একজন লোক এসে ‘সালাম’ জানিয়ে বললেন, আমি কি ভিতরে আসতে পারি। রাসূল (সাঃ) এর কন্যা ফাতিমা (রাঃ) বললেন, দুঃখিত আমার পিতা খুবই অসুস্থ। একথা বলে ফাতিমা (রাঃ) দরজা বন্ধ করে রাসূল (সাঃ) কাছে গেলেন। হযরত রাসূল (সা) বললেন, কে সেই লোক? ফাতিমা বললেন, এই প্রথম আমি তাকে দেখেছি। আমি তাকে চিনি না। রাসুল (সাঃ) বললেন শুনো ফাতিমা, সে হচ্ছে আমাদের এই ছোট্ট জীবনের অবসানকারী ফেরেশতা আজরাইল। এটা শুনে হযরত ফাতিমার অবস্থা তখন ক্রন্দনরত বোবার মতো হয়ে গিয়েছে। রাসূল (সাঃ) বললেন, হে জিবরাঈল আমার উম্মতের কি হবে? আমার উম্মতের নাজাতের কি হবে ? জিবরাঈল (আঃ) বললেন, হে রাসুল আপনি চিন্তা করবেন না, আল্লাহ ওয়াদা করেছেন আপনার উম্মতের নাজাতের জন্যে। মৃত্যুর ফেরেশতা ধীরে ধীরে রাসূলের কাছে এলেন জান কবজ করার জন্যে। মালাকুল মউত আজরাইল আরো কাছে এসে ধীরে ধীরে রাসূলের জান কবজ করতে থাকলেন। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জিব্রাইলকে রাসূল বললেন ঘোঙানির সাথে, ওহ জিবরাঈল এটা কেমন বেদনাদায়ক জান কবজ করা। ফাতিমা (রাঃ) তার চোখ বন্ধ করে ফেললেন, আলী (রাঃ) তার দিকে উপুড় হয়ে বসলেন, জিবরাঈল তার মুখটা উল্টা দিকে ফিরিয়ে নিলেন।রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন, হে জিবরাঈল তুমি মুখটা উল্টা দিকে ঘুরালে কেন, আমার প্রতি তুমি বিরক্ত? জিবরাঈল বললেন, হে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাকারাতুল মউতের অবস্থায় আমি আপনাকে কিভাবে দেখে সহ্য করতে পারি! ভয়াবহ ব্যাথায় রাসূল ছোট্ট একটা গোঙানি দিলেন। রাসূলুল্লাহ বললেন, হে আল্লাহ সাকারাতুল মউতটা (জান কবজের সময়) যতই ভয়াবহ হোক, সমস্যা নেই, আমাকে সকল ব্যথা দাও আমি বরণ করবো, কিন্তু আমার উম্মাতকে ব্যথা দিওনা। রাসূলের শরীরটা ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে আসতে লাগলো। তার পা, বুক কিছুই নড়ছে না এখন আর। রাসূলের চোখের পানির সাথে তার ঠোঁটটা কম্পিত ছিলো, তিনি কিছু বলবেন মনে হয়।হযরত আলী (রাঃ) তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে নিয়ে গেলো। রাসূল বললেন, নামাজ কায়েম করো এবং তোমাদের মাঝে থাকা দূর্বলদের যত্ন নিও। রাসূলের ঘরের বাইরে চলছে কান্নার আওয়াজ, সাহাবীরা একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে উচ্চস্বরে কান্নারত।হযরত আলী (রাঃ) আবার তার কানটা রাসূলের মুখের কাছে ধরলো, রাসূল চোখ ভেজা অবস্থায় বলতে থাকলেন, ইয়া উম্মাতি, ইয়া উম্মাতি, “হে আমার উম্মতেরা নামাজ, নামাজ..! নামাজ..!! মৃত্যুর পর যে কারণে বড়ই পাতা দিয়ে শেষ গোসল করানো হয়!পৃথিবীতে সবকিছুর যেমন শুরু আছে, তেমনি তার শেষও আছে। কিন্তু কিছু কিছু মানুষ যখন অনেককিছু পেয়ে বসে তখন শেষ নামক শব্দটাকে ভুলে যায়। আর তখনি মানুষে-মানুষে হানাহানি আর কোন্দলের সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি শব্দটার সাথে শুরু শব্দটার যেমন মিল আছে, তেমনি শেষ শব্দটার সাথেও মৃত্যু শব্দটার অনেক মিল। এই মৃত্যুর পরও রীতির অভাব নেই। কবরে নিয়ে দাফন সম্পন্ন করার আগে শেষ গোসলের রীতি অবশ্যই পালন করতে হয়। তবে এর মাঝেও পালন করার মত অনেক কিছু রয়েছে। মৃতের গোসলের পানিতে বড়ই বা কুলপাতা দেয়া শরীয়ত সম্মত। অনেকে অবশ্য এটাকে ওয়াজিব বলে থাকে তবে এটা ওয়াজিব নয়। আলেমগণ হাদিসের নির্দেশকে মুস্তাহাব বলেছেন। কারণ কুলপাতা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার জন্য খুব কার্যকরী। কুলপাতা না পাওয়া গেলে সাবান বা এ জাতীয় কিছু ব্যবহার করাই যথেষ্ট। ইসমাঈল ইবনে আবদুল্লাহ (রহ) উম্মে আতিয়্যা আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর কন্যা যায়নাব রা.-এর ইন্তিকাল হলে তিনি আমাদের কাছে এসে বললেন : তোমরা তাকে তিন, পাঁচ প্রয়োজন মনে করলে তার চাইতে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবার কর্পূর বা (তিনি বলেছেন) কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাকে জানালাম। তখন তিনি তাঁর চাদরখানা আমাদের দিয়ে বললেন: এটি তাঁর গায়ের সাথে জড়িয়ে দাও।