নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হলে ফেরত যাবো না, রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ।

377

কক্সবাজার থেকে সালেহ নোমান (ব্যুরোচিফ, চট্টগ্রাম) : রোহিঙ্গা শরনার্থীদৈর নিজদেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে দ্বিতীয় বারের মত অনিশ্চয়তা তৈরি হলো। বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সাক্ষরিত সমঝোতা চুক্তির আলোকে আজ থেকে কক্সবাজারের শরনার্থী শিবির থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন শুরুর হওয়ার তারিখ নির্ধারিত থাকলেও কোন রোহিঙ্গাই এতে রাজি হয়নি। উল্টো বাংলাদেশ সরকারের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে প্রত্যাবাসন বিরোধী বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছে রোহিঙ্গারা। সরকারের শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, নাগরিকত্বের মত মৌলিক কিছু দাবি পুরণ না হওয়ায় রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনে রাজি হচ্ছেনা।
ছবি-সালেহ নোমান

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার আপত্তি সত্বেও দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে রোহিঙ্গাদেরকে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছিলো বাংলাদেশ সরকার। সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা ৫টি বাস ও দুটি ট্রাক নিয়ে রোহিঙ্গাদের ঘুমধুম সীমান্ত পয়েন্টে নিয়ে যাওয়ার জন্য শরনার্থী টাস্কফোর্সের প্রধান আরআরআরসি মোহাম্মদ আবুল কালামের নেতৃত্বে টেকনাফের উনচিপ্রাং ক্যাম্পে হাজির হন সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও সাহায্য সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা। সেখানে পূর্বে থেকে তালিকাভূক্ত করা হয়েছিলো ২৭ রোহিঙ্গা পরিবারকে। বেলা সাড়ে বারোটার দিকে, কর্মকর্তারা লাউডস্পীকারে এসব রোহিঙ্গা পরিবারকে প্রত্যাবাসনের জন্য রাখা নির্ধারিত গাড়ীতে উঠার অনুরোধ জানান। কিন্তু নাগরিকত্ব নিশ্চিত না হলে কোন ক্রমেই মিয়ানমারে ফিরে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে রোহিঙ্গারা। এসময় প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকাভূক্ত হওয়া কয়েকজন রোহিঙ্গা হাউ-মাউ করে কাদতে থাকেন। রাহেলা(৩৫) ও লায়লা(৫০) নামের দুই রোহিঙ্গা নারী জুম বাংলাকে বলেন, তারা আমাদের অবর্ণনীয় নিযাতন করেছে, এখন আবোর সেখানে ফেরত পাঠালে আবারো একই ধরনের নিযাতন করবে। মরে গেলেও আমরা সেখানে ফেরত যাবোনা। বিক্ষোবরত রোহিঙ্গারা বলেন, নাগরিকত্ব ণিশ্চিত না হলে মিয়ানমারে ফিরে গেলে তাদের আবারো ফেরত পাঠানো হবে।

রোহিঙ্গা ইউসূফ(৩২) ও সাদেক(১৮) বলেন, আমাদের নাগরিকত্ব দেয়া হয়নি। সেখানে নিয়ে ট্রানজিট ক্যাম্পে রাখবে, আমাদের বাড়ী ঘরে বসবাস করার সুযোগ দিবেনা, এমন পরিস্থিতিতে সেখানে যাওয়া মানে মৃত্যুকুপে ফিরে যাওয়া। নাগরিকত্বসহ সেখানকার মগরা যেসব অধিকার নিয়ে বসবাস করে আমাদেরও সেসব অধিকার নিশ্চিত করলে তবেই ফেরত যাবো, উল্লেখ করেন রোহিঙ্গা ইউসুফ। উনচিপ্রাং ক্যাম্পে যেসব রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনের জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছিলো তাদের অনেকেই পালিয়ে গেছে বলে অন্য রোহিঙ্গারা জানিয়েছে। প্রথম পযায়ে ফেরত নেওয়ার জন্য মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকার মোট ২২২৬জন রোহিঙ্গার ভেরিফিকেশান সম্পন্ন করেছিলো।

রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ও টেকনাফের কেরানতলিতে দুটি ট্রানজিট ক্যাম্প চালু করেছে বাংলাদেশ সরকার।আজ ৩০পরিবারের ১৫০ রোহিঙ্গাকে ঘুমধুম সীমান্ত দিয়ে সড়ক পথে মিয়ানমারে পাঠানোর কথা ছিলো। কোন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজি না হওয়ায় সরকারের কর্মকর্তারা বিকাল চারটা পযন্ত অপেক্ষা করে ট্রানজিট পয়েন্ট ও ক্যাম্পগুলো থেকে ফেরত আসেন। শরনার্থী ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত সরকারের শরনার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ উনচিপ্রাং ক্যাম্পে সাংবাদিকদের জানান, মৌলিক কিছু দাবি পূরণ না হওয়ায় রোহিঙ্গারা প্রত্যাবাসনে রাজি হচ্ছেনা। পরবর্তী করণীয় নিয়ে সরকারের উচ্চপযায়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আবুল কালাম বলেন, রোহিঙ্গাদের পূর্ণ নিরাপত্তাসহ সীমান্ত পযন্ত নিয়ে যাওয়ার পূর্ণ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছিলো। প্রয়োজনীয় রেশন ও ঔষধ পত্র নিয়ে এসেছি, কিন্তু তাদের নাগরিকত্ব মিয়ানমার সরকারের বিষয়, এটা আমাদের হাতে নেই, উল্লেখ করেন তিনি। বর্তমানে কক্সবাজারের শরনার্থী ক্যাম্পগুলোতে প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গ বসবাস করছে। এসব রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারের ফেরত পাঠানোর জন্য জাতিসংঘ ও দুইদেশের সরকার কাজ করলেও জাতিসংঘ বলছে মিয়ানমারে এখনো রোহিঙ্গাদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরী হয়নি।