মেঘনায় সংঘর্ষে লঞ্চের তলায় ফাটল, ডুবে গেল একটি লঞ্চ

723

বরিশালের হিজলার মেঘনা নদীতে যাত্রীবাহী লঞ্চ এমভি যুবরাজ-৭ ও বালুবাহী বাল্কহেড এমভি সিয়ামের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে শনিবার (২৫ মে) সকাল ১০টায় ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় বাল্কহেডটি ডুবে গেছে ও লঞ্চটির তলায় ফাটল দেখা দিয়েছে।
পরবর্তীতে দুর্ঘটনাকবলিত লঞ্চে থাকা ৩শ’র মতো যাত্রীকে এমভি আওলাদ-৪ নামের লঞ্চে করে ঢাকার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
লঞ্চের স্টাফ ও যাত্রীরা বলেন, এমভি যুবরাজ-৭ পটুয়াখালী থেকে ৩শ যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে শুক্রবার (২৪ মে) বিকেলে রওয়ানা দেয়। মাঝপথে বরিশালের হিজলা সংলগ্ন মেঘনা নদীতে এসে ঝড়ের কবলে পড়ে। এসময় অন্য একটি লঞ্চের সঙ্গে এমভি যুবরাজ-৭ নামের লঞ্চটিকেও নদী তীরে বেঁধে রাখা হয়। পরে ঝড় থামলেও ভাটার কারণে লঞ্চটি চরে আটকে যায়। শনিবার সকালে লঞ্চটি অন্য লঞ্চের সহায়তায় চর থেকে নামিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা করানো হয়। কিছুদূর এগিয়ে হিজলার মিয়ারচর সংলগ্ন মৌলভীরহাট এলাকায় পৌঁছালে এমভি সিয়াম নামে বালুবাহী একটি বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষ হয় লঞ্চটির।

এতে লঞ্চের তলা ফেটে গেলে তাৎক্ষণিক সেটিকে নদী তীরে নোঙর করা হয় বলে জানিয়ে এমভি যুবরাজ-৭ এর মাষ্টার সিরাজ বলেন, উল্টাপাশ থেকে বাল্কহেডটি এসে লঞ্চের তলায় সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে যাত্রীরা কেউ হতাহত না হলেও লঞ্চটির তলা ফেটে পানি উঠতে শুরু করে।
তিনি বলেন, পরে লঞ্চটিকে তীরে নোঙর করে যাত্রীদের এমভি আওলাদ-৪ নামের অপর লঞ্চে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ মুহূর্তে লঞ্চটিকে কোনোভাবে মেরামত করা হচ্ছে, যাতে ঢাকায় নিয়ে পুরোপুরি মেরামত সম্ভব হয়।
এদিকে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়ে নৌ-পুলিশের হিজলা ফাঁড়ির পরিদর্শক শেখ মো. বেল্লাল হোসেন বলেন, বাল্কহেডের ৮ জন লোক ছিল, বাল্কহেডটি ডুবলেও তাদের জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
অপরদিকে লঞ্চের যাত্রীরাও নিরাপদে ঢাকার উদ্দেশে রওয়ানা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক ও বরিশাল বন্দর কর্মকর্তা আজমল হুদা সরকার মিঠু।
বাল্কহেডটি নিমজ্জিত অবস্থা থেকে উত্তোলন না করা গেলে ওই চ্যানেলে নৌযান চলাচলে বিঘ্নতা ঘটতে পারে বলে ধারণা লঞ্চ মাস্টার-চালকদের।