‘দেশের ডাক্তাররা ঝুঁকি নিতে রাজি হননি, তাই বাধ্য হয়ে ব্রিটেনে চিকিৎসা নিতে হল’

348

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের ডাক্তাররা সাইকোলজিক্যাল কারণে আমার চোখ অপারেশনের ঝুঁকি নিতে রাজি হননি। তাই বাধ্য হয়ে ব্রিটেনে এই চিকিৎসা নিতে হলো।’
গতকাল ৯ মে বৃহস্পতিবার লন্ডনের তাজ হোটেলে আয়োজিত এক মত বিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুক্তরাজ্য শাখা ও দলের সহযোগী সংগঠনগুলো এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
এ সময় দেশের জন্য প্রবাসীদের ভূমিকার ইতিহাস স্মরণ করে প্রায় আধাঘণ্টা কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি, মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের বিভিন্ন দুর্যোগ দুঃসময়ে ব্রিটেন প্রবাসীদের ভূমিকা ও তার সরকারের আমলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বিষয়ে কথা বলেন তিনি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে ব্রিটেন প্রবাসী বাঙালিদের একটি আত্মার সম্পর্ক রয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার রাজনীতির জটিল সময়গুলোতে সব সময়ই প্রবাসীদের কাছ থেকে পেয়েছেন অকৃত্তিম সমর্থন। ৭৫ পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিতে এই ব্রিটেনেই প্রথম তৎপরতা শুরু হয়েছিল।’
এ সময় সরকারের বিরুদ্ধে বিএনপি মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে বেড়াচ্ছে, এমন অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যাদের জন্ম হয়েছে মিথ্যা ও বেআইনি উপায়ে, তাদের কাছে সবকিছুই অবৈধ মনে হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘মিথ্যাচার বিএনপির স্বভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ তারা এতিমদের অর্থ আত্মসাৎ করে ও দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে বড়লোক হয়েছে। তবে আমি বিশ্বাস করি, শেষ পর্যন্ত সত্যেরই জয় হয়।’
এ সময় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় ও গত ১০ বছরে দেশের ব্যাপক উন্নতির তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান, যেন দেশকে নিয়ে ভবিষ্যতে আর কেউ ছিনিমিনি না খেলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, যেন কেউ আর দেশের জনগণের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি না খেলতে পারে এবং ইতিহাসকে বিকৃত না করতে পারে।’
এ সময় যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন। যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন।
এদিকে গত ১ মে ১০ দিনের সরকারি সফরে লন্ডনযান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সফরে চোখের চিকিৎসাসহ পরিবার সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামীকাল (১১ মে) শনিবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার।