বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই খেজুর বাগানের খেজুর শুধুমাত্র ইফতারের জন্য

268

পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ একটি ফল খেজুর। খেজুরে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রণ, ভিটামিন, মিনারেল ও ডায়েটরই ফাইবার যা রক্তস্বল্পতা দূর করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
বৈজ্ঞানিক বিষয়টি ছাড়াও ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মুসলমানদের কাছে খেজুর অতি প্রিয় ও পবিত্র একটি ফল। খেজুর গাছের দেশ সৌদি আরবে বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (স.) জন্ম গ্রহণ করেছেন। শিশুকাল থেকে খেজুরই ছিল তার খাদ্য তালিকার প্রধান একটি অংশ।
সেই সৌদি আরবেই রয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর বাগান। সারি সারি প্রায় দুই লাখ খেজুর গাছের সমারোহে গড়ে উঠেছে এই বাগানটি।
এ বাগানটির মালিকের নাম শেখ সালেহ বিন আবদুল আযীয রাজেহী। তার নামানুসারেই বাগানের নাম রাখা হয়েছে ‘রাজেহী বাগান’।
১৯৯০ সালের দিকে বাগানটিতে খেজুরের সঙ্গে গম ও তরমুজও উৎপাদন করা হতো। ১৯৯৩ সালে এসে বাগান মালিক সালেহ বিন আবদুল আযীয রাজেহীর নির্দেশে গম ও তরমুজ অন্যত্র সরিয়ে শুধুমাত্র খেজুরের জন্য রাখা হয় এবং বিভিন্ন প্রকারের খেজুর গাছের আবাদ শুরু হয়।

রমজানে ওমরাহ পালনের উদ্দেশে পবিত্র কাবা ও মদিনায় গিয়েছেন কিন্তু এই বাগানের খেজুর উপভোগ করেননি এমন ইমানদার খুঁজে পাওয়া মুশকিল।
মূলত, রমজানে মক্কা-মদীনায় সর্বাধিক খেজুর সরবরাহ হয় এ বাগান থেকে।
আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, বিশ্বের সবচেয়ে বড় এই খেজুর বাগানের কোনো খেজুরই বিক্রয়ের জন্য নয়। এই বাগানের পুরো উৎপাদনই আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দেয়া হয়েছে।
সে কারণে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘ওয়াকফ সম্পত্তি’ হিসাবেও এই বাগানকে বিবেচনা করা হয়। গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ডে এ বাগানটি যুক্ত হয়েছে।
পরিসংখ্যন বলছে, খেজুর উৎপাদনে সৌদি আরব বিশ্বে প্রথম। দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে আড়াই কোটির বেশি খেজুর গাছ সরকারি ও বিভিন্ন ব্যক্তি মালিকানাধীন রয়েছে।
এসব খেজুর গাছে ৩৬০ প্রকারের খেজুর উৎপাদিত হয়। তার মধ্যে দেশটির মদীনা, মাসকানি, মাবরুম, বারহি, সাকি, মুনিফি, শাশি, সুকারি ও আযওয়া নামের খেজুর বেশ প্রসিদ্ধ।