মায়ের সঙ্গে হোটেলে কাজ করেও জিপিএ-৫ পেল মেধাবী কাওছার

150

দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ বাবা নহির উদ্দিন মণ্ডল। অভাবের সংসার চালানোর ভার গিয়ে পড়েছে মা কাজল রেখার কাঁধে। ভাতের হোটেল খুলে কোনো রকমে সংসারের হাল ধরেছেন মা।
সেই হোটেলে হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে কাওছার আলী। কাওছার রাজশাহীর তানোর পৌরশহরের চাপড়া এলাকার বাসিন্দা। অদম্য এই মেধাবী চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন আঁকছে চোখে।
তানোর পৌরশহরের চাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল কাওছার। সবকটি বিষয়ে প্রায় শতভাগ নম্বর পেয়েছে সে।
প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন এ প্লাস পায় কাওছার। পায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। মায়ের সামান্য উপার্জন এবং বৃত্তির টাকা দিয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সে।
কাওছার জানায়, ছোটবেলা থেকেই বাবাকে অসুস্থ দেখে আসছে সে। জীবিকার তাগিদে নিজ গ্রাম ধানতৈড় ছেড়ে চাপড়া বাজারে চলে আসেন। চাপড়া মোড়ে ভাড়া নেন একটি দোকান ঘর। সে ঘরেই বসবাস তাদের। এরই একপাশে ছোলা-মুড়ির দোকান খোলেন। বর্তমানে সেটা ভাতের হোটেল।

কাওছার আলীর মা কাজল রেখা জানান, ভাতের হোটেলে দিনরাত কাজ করে এক ছেলে ও এক মেয়ের পড়ালেখা চালাচ্ছেন। স্বামীর চিকিৎসা এবং সংসার খরচও আসছে এখান থেকেই। আর্থিক সঙ্গতি না থাকলেও ছেলের উন্নত ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে প্রাণান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাবার কথাও জানান এই সংগ্রামী মা।
তিনি আরও জানান, গত বছরে গচ্ছিত কিছু টাকা দিয়ে এলাকার পাশে একটি নিজেদের ঘর নির্মাণ শুরু করেন। কিন্তু টাকার অভাবে তা আর শেষ করতে পারেননি। ফলে বাধ্য হয়েই দোকানের এক কোণে কোনো রকমে বসবাস করতে হচ্ছে তাদের।
চাপড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিল্লুর রহমান জানান, কাওছার অত্যন্ত মেধাবী। প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসিতে এ প্লাস পেয়েছে সে। ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিও পেয়েছে সে। সুযোগ পেলে চিকিৎসক হয়ে মানবতার সেবায় নিয়োজিত হতে পারবে সে।