কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে মারা গেছেন নানকের ছেলে

689

সাবেক নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাবেক প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের ছেলে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।
সেখানে একটি কুকুরকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা হয়েছে, এখানেই বা চালকের দোষ কোথায়?
রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় শীর্ষক’ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রশ্ন তোলেন। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সড়কে দুর্ঘটনার জন্য বাসচালকের শাস্তি হলে রেলপথে মানুষের মৃত্যুর জন্য ট্রেনচালকের শাস্তি হয় না কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন শাজাহান খান।
সাবেক মন্ত্রী বলেন, দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যাত্রী, পথচারী, চালক সবাইকে সচেতন হতে হবে। কোনো ঘটনা হলেই আমরা বলি, ‘ঘাতক ড্রাইভার হত্যা করেছে’। তা কি ঠিক? মিশুক মুনীর, তারেক মাসুদসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় চালকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। দেখা গেছে, এসব দুর্ঘটনায় চালক এককভাবে দায়ী নয়। তাহলে চালক এককভাবে সাজা খাটবে কেন?

শাজাহান খান বলেন, ১৯৮৩ সালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু যোগাযোগমন্ত্রী থাকাকালে ৮৮টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো আজও বাস্তবায়ন হয়নি। আমরাও ১১১টি সুপারিশ করেছি, কিন্তু এগুলো বাস্তবায়ন করবে কে?
উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের চকোরিয়া উপজেলায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের কাছে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন জাহাঙ্গীর কবির নানক ও নার্গিস কবির দম্পতির একমাত্র ছেলে ফাহিমুর রহমান সায়েম। ওই দুর্ঘটনায় আরো আহত হন তার মামা সৈয়দ গোলাম পিউ (৩২) ও একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের চিত্রগ্রাহক এনামুল কবির (৩০)। বিয়ের মাত্র দু’বছরের মাথায় স্বামীকে হারান ফাহিমের স্ত্রী সারাফ আনিকা রহমান। ওই সময় তাদের একমাত্র সন্তান মেহরিশের বয়স ছিল সাত মাস।