জিপিএ-৫ পাওয়া প্রতিবন্ধী দীপা নন্দীর দায়িত্ব নিলেন এডিসি

91

চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া প্রতিবন্ধী দীপা নন্দীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ আবুল হাসেম। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার একদিন না যেতেই সোমবার রাত সোয়া ১১টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের টাইমলাইনে দিপার লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ার কথা জানান মুহাম্মদ আবুল হাসেম।
টাইমলাইনে তিনি লিখেছেন, অদম্য মেধাবী এ মেয়েটিকে আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি পানছড়িতে ইউএনও থাকাকালীন। পানছড়ির মুখ উজ্জ্বল করেছে সে পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করে। এ উপজেলায় সে-ই একমাত্র জিপিএ-৫ অর্জনের সফল অধিকারী। প্রতিবন্ধিতা তার সফলতার পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি। আজ থেকে ওর পড়ালেখার সকল দায়িত্ব আমি ব্যক্তিগতভাবে নিলাম।
এদিকে প্রতিবন্ধী দীপা নন্দীর লেখাপড়ার দায়িত্ব নেয়ার ঘোষণায় পানছড়িতে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এ ঘোষণাকে তার মহানুভবতা হিসেবেই দেখছেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। এমন ঘোষণায় তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পানছড়ির শিক্ষা সচেতন মহল।

খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য খগেশ্বর ত্রিপুরা লিখেছেন, একজন শিল্পী যখন গান গায় তখন গানপাগল দর্শকশ্রোতা সেই শিল্পীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে, হাত উঁচিয়ে গান গায়। তেমনি একজন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি কেউ শিক্ষাক্ষেত্রে প্রভূত সাফল্য লাভ করলে তিনি ইতিবাচক কিছু না করে (যদি তার সামর্থ থাকে) নীরবে থাকতে পারেন না। এডিসি মুহাম্মদ আবুল হাসেম মহোদয় শিক্ষানুরাগী বিধায় ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে প্রতিবন্ধী দীপা নন্দীর পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন। এ উদ্যোগের জন্য আমি তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি।
প্রসঙ্গত, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় মামা-মামির সংসারে বড় হওয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী দীপা নন্দী জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়। দীর্ঘ বছর জিপিএ-৫ এর খরা কাটিয়ে পার্বত্য খাগড়াছড়ির পানছড়িতে এবারের এসএসসিতে প্রতিবন্ধী দীপা নন্দী জিপিএ-৫ পাওয়া একমাত্র শিক্ষার্থী। সে পানছড়ি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী।