স্ত্রীর পরকীয়ার খবর শুনে নিজে বিষ খেয়ে ছেলেকেও বিষ পান করাল স্বামী!

1646

নাটোরের গুরুদাসপুরে স্ত্রীর পরকীয়ার খবর শুনে স্বামী মো. খালেক (৩৫) ও পূত্র মো.তামিম (৮) বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন। উপজেলার পৌর সদরের চাঁচকৈড় পুড়ান পাড়া এলাকায় ঘটা এ ঘটনায় বেশ চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১০-১২ বছর আগে চাঁচকৈড় পুড়ানপাড়া গ্রামের মো.দেরেষ মোল্লার কন্যা মোছা.তানজিলা (৩৩) কে বিযে করে চাপিলা ইউনিয়নের নওপাড়া গ্রামের মো.ইসাহক আলীর ছেলে মো. খালেক।

বিয়ের পর ভালই চলছিল তাদের সংসার। বিয়ের দুই-তিন বছর পরে তাদের একটি সন্তানও হয়। কিন্তু ছেলের বাড়ির লোকজন ছেলের বউ অর্থাৎ তানজিলা কে অনেক নির্যাতন করতো। তাই ২ বছর আগে সেখান থেকে খালেক একেবারে চলে আসে তানজিলার বাবার বাড়িতে। বর্তমানে তারা সেখানেই থাকতো। কিন্তু স্বামী নির্যাতন করে এই অভিযোগ এনে গত ২ মাস আগে তানজিলা তার স্বামী খালেক কে তালাক দেয়। এদিকে তানজিলা অন্য আরেকটি ছেলের সাথে পরকীয়া করেছে বলে খালেক অভিযোগ করে।
তালাক ও স্ত্রীর পরকীয়ার ঘটনা জানার পর থেকেই খালেক অনেক স্তব্ধ হয়ে থাকতো। মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে হঠাৎ ছেলে তামিমকে তার শশুর বাড়ির রাস্তার কাছ থেকে ডেকে এনে খালেক নিজেও বিষ পান করে এবং ছেলেকেও ফুসলিয়ে বিষ পান করায়। স্থানীয় লোকজন তাদের এ ঘটনা টের পেয়ে দ্রুত তাদের গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

গুরুদাসপুর উপজেলা স্ব্যাস্থ কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো.রবিউল করিম শান্ত জানান, পিতা-পূত্র দুজনের অবস্থাই গুরুতর।
এ বিষয়ে তানজিলা খাতুন বলেন, আমার স্বামী আমাকে অনেক নির্যাতন করতো এবং কোন কাজ কর্ম করতো না। আমার পরিশ্রমের টাকায় সংসার চলতো। এ জন্য তাকে ২ মাস আগে তালাক দিয়েছি।
তিনি বলেন, খালেক আমার ছেলে তামিমকে জোর করে ভ্যানের ওপর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে সে নিজেও বিষ খেয়েছে এবং আমার ছেলেকেও বিষ পান করাইছে। পরকীয়ার অভিযোগ সাজানো এবং মিথ্যা।