২০১৫ ও ২০১৯ বিশ্বকাপ স্কোয়াড একসাথে দেওয়া হলো, পার্থ্যক দেখেনিন

224

গত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ খেলেছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। ভারতের বিপক্ষে বিতর্কিত সেই ম্যাচে না হারলে বাংলাদেশ কোথায় গিয়ে থামতো সেটা বলা মুশকিলই ছিল।
আরও একটি বিশ্বমঞ্চে নামবে টাইগাররা। এবারের স্কোয়াড ঘোষণার আগে সবার মুখে মুখে ছিল ইমরুল কায়েস, তাসকিন আহমেদ, ইয়াসির আলি রাব্বির নাম। তারা কেউই সুযোগ পাননি। চমক দেখিয়ে জায়গা করে নিয়েছেন ওয়ানডেতে অভিষেক না হওয়া পেসার আবু

জায়েদ রাহি।
২০১৫ বিশ্বকাপের স্কোয়াড:
মাশরাফি বিন মুর্তজা, সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, এনামুল হক বিজয়, মুমিনুল হক, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নাসির হোসেন, তাইজুল ইসলাম, আল-আমিন হোসেন, রুবেল হোসেন, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, আরাফাত সানি এবং তাসকিন আহমেদ।
গত বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন ৭ ক্রিকেটার। অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে হওয়া আগের বিশ্বকাপের স্কোয়াড থেকে এবারের স্কোয়াডে রয়েছেন ৮ জন। নতুন করে বিশ্বকাপ খেলতে যাবেন সাতজন।

২০১৯ বিশ্বকাপের স্কোয়াড:
মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, মোস্তাফিজুর রহমান, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার, রুবেল হোসেন, মেহেদি হাসান মিরাজ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ মিঠুন, আবু জায়েদ রাহি, সাব্বির রহমান।
এবার বাদ পড়লেন যারা:
তাসকিন আহমেদ:
বিশ্বকাপের গেল আসরে বুক চিতিয়ে লড়েছিলেন এই গতি তারকা। বিপিএল ষষ্ঠ আসরে উড়ন্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে এবারের বিশ্বকাপেও নিশ্চিতভাবে নিজের জায়গাটি করে নিতে পারতেন। কিন্তু সেখানে বাধ সাধলো ইনজুরি।
বিপিএলে নিজেদের শেষ ম্যাচে গোঁড়ালির চোটে প্রায় আড়াই মাস মাঠের বাইরে থাকায় প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন তার ১৫ সদস্যের দলে থাকার সম্ভাবনা একেবারেই উড়িয়ে দিয়েছিলেন।
ইনজুরি থেকে সেরে উঠে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়ে আবার মাঠে ফেরায় তাকে নিয়ে নতুন পরিকল্পনা শুরু হয়। সেখানে ভালো কিছু করতে না পারায় এই বিশ্বকাপে দর্শকের ভূমিকায় থাকতে হচ্ছে তাকে।

এনামুল হক বিজয়:
ঘরোয়া ক্রিকেটের সবশেষ দশ ম্যাচে বিজয়ের ব্যাট থেকে সর্বোচ্চ ইনিংস ১০২ রানের, আবাহনীর বিপক্ষে। শেখ জামালের বিপক্ষে করেন ১০১, রূপগঞ্জের বিপক্ষে করেছিলেন ১০০। টানা তিন সেঞ্চুরি করেও বিশ্বকাপের দলে এবার তার জায়গা মেলেনি।
মুমিনুল হক:
টেস্টের তকমা গায়ে লেগে যাওয়া মুমিনুল হক এবার যেতে পারছেন না বিশ্বকাপে। ঘরোয়া ক্রিকেটে নিজের খেলা সবশেষ দশ ম্যাচে ইনিংস সর্বোচ্চ ৯৩ রান করেছিলেন বিকেএসপির বিপক্ষে। মোহামেডানের বিপক্ষে করেছিলেন ৭৮, শেখ জামালের বিপক্ষে করেছিলেন ৬০ রান
আরাফাত সানি:
স্পিনার আরাফাত সানি গত বিশ্বকাপে থাকলেও এবার নেই। সেটি তার পারফরম্যান্স বিবেচনায়। আর ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা সবশেষ দশ ম্যাচে বলার মতো কিছু করে দেখাতে পারেননি। ব্রাদার্সের বিপক্ষে ৬২ রানে চার উইকেট নিয়েছিলেন জাতীয় দল থেকে অনেক আগেই ছিটকে পড়া সানি।

আল আমিন হোসেন:
ডানহাতি পেসার আল আমিন হোসেন এবারের ঘরোয়া লিগে প্রাইম ব্যাংকের হয়ে বিকেএসপির বিপক্ষে ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন। কিন্তু, সেটি বিশ্বকাপে জায়গা করে দেওয়ার মতো ছিল না। আর গত বিশ্বকাপে কাউকে না জানিয়ে টিম হোটেল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণেও সমালোচনার শিকার হয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে আছে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিস্তর অভিযোগ।
নাসির হোসেন:
নাসির হোসেন সবশেষ ম্যাচে শেখ জামালের হয়ে প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ১১০ বলে অপরাজিত ১১২ রান করেছিলেন। তার আগে একই দলের বিপক্ষে করেছিলেন ৭৬ রান। তবে, জাতীয় দলের দরজা বন্ধ হয়েছে গত বছর জানুয়ারিতে।

তাইজুল ইসলাম:
সাদা পোশাকে দুর্দান্ত ঘূর্ণিতে ভেলকি দেখানো স্পিনার তাইজুল ইসলাম সবশেষ ওয়ানডে খেলেছেন ২০১৬ সালে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। ঘরোয়া ক্রিকেটে শেখ জামালের হয়ে সবশেষ দশ ম্যাচে তেমন কিছুই করে দেখাতে পারেননি তাইজুল। বলার মতো পারফরম্যান্স ৩৯/৩, খেলাঘরের বিপক্ষে।