নুসরাতের লেখা কবিতা হাতে নিয়ে অঝোরে কাঁদছেন মা

715

দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া মাদ্রাসা ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মায়ের কান্না থামছেই না। ঘরের প্রতিটি জায়গায় যেখানে তার বই, খাতা, পড়ার টেবিল, খাট ও আলমিরা পড়ে আছে তা আঁকড়ে ধরে কেবলই কাঁদছেন। শুক্রবার তাদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়- প্রিয় কন্যার হাজারো স্মৃতি ও দুঃসহ বেদনা নিয়ে নুসরাতের শয়ন কক্ষে নির্বাক হয়ে বসে আছেন তার মা শিরিন আক্তার। আত্মীয়স্বজন এসে তার সঙ্গে সমব্যথিত হচ্ছেন। কিন্তু কেউ তাকে নুসরাতের কক্ষ থেকে সরাতে পারছেন না।

নুসরাত মাকে খুবই ভালোবাসত। মাকে নিয়ে কবিতাও লিখেছিল সে। মাকে ভালোবেসে তাকে নিয়ে লেখা নুসরাতের কবিতা আগন্তুকদের দেখিয়ে শিরিন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, মা নুসরাত আজ আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু নুসরাতের পরিধানের বস্ত্র বই খাতাই যেন তার কাছে একজন নুসরাত।

নুসরাতের মা শিরিন আক্তার নুসরাতের উপর যৌন নিপিড়নকারী অধ্যক্ষের ফাঁসি আর আগুন দেওয়া সন্ত্রাসীদের আগুনে পুড়িয়ে নুসরাতের মতো করে হত্যার দাবি করে বলেন, এবার আলিম পাসের পর নুসরাত উচ্চ শিক্ষার জন্য ফেনীতে ভর্তি হবে বলে পরিকল্পনা করেছিল। নুসরাত চেয়েছিল ওই অধ্যক্ষের কাছে আর না পড়তে এবং ফাজিল শ্রেণিতে ভর্তি না হতে। কিন্তু আমার বুকের ধনকে আর ওরা বাঁচতে দিলো না।

একমাত্র মেয়েকে হারিয়ে শিরিন আক্তার পাগলের মতো সবার দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকেন আর বিলাপ করছেন। এদিকে, বড় বোন নুসরাতের মৃত্যুর পর বৃহস্পতিবার জ্ঞান হারানো ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন। শত চেষ্টা করেও কেউ তাকে কিছু খাওয়াতে পারছে না। কিছুক্ষণ পরপর মূর্ছা যাচ্ছেন। বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান জানান, নুসরাত সারা দেশব্যাপী একটি প্রতিবাদের নাম। আমার বোনের মতো যেন কেউ আর হারতে না হয়, সেই ব্যাপারে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

মেয়েকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে সোনাগাজী থানায় মামলা করেন নুসরাতের মা। এ মামলায় গত ২৭ মার্চ গ্রেপ্তার হয় অধ্যক্ষ সিরাজ।

ওই মামলা তুলে নিতে গত ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। নুসরাত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় মারা যান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দাদির কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।