এবার সোনাগাজীতে এক যুবককে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা

335

নুসরাত জাহান রাফির পর ফেনীর সোনাগাজীতে এক যুবককে হাত-পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছে দুর্বত্তরা।

বুধবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে পৌরসভার চর গণেশ এলাকায় এ ঘটনা হয়।

স্বজনরা জানান, আবু সালেহ মিম ঢাকার পলিটেকনিক্যালে ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগে শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী। গত রোববার তিনি বাড়ি যান।

গতকাল সন্ধ্যায় চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজন ছুটে এসে আবু সালেহ মিমকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় উঠানে পড়ে থাকতে দেখে। এ সময় তার শরীরের পোশাক কেরোসিন তেলে ভেজা দেখতে পান স্বজনরা।

এক পর্যায়ে বাড়ির লোকজন তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় ফেনী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাকে আশংকাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

আহতের বোন বলেন, কেরোসিন ঢেলে আগুন দিতে চেষ্টা করেছিল, কিন্তু লোকজন এসে পড়ায় তারা আর আগুন দিতে পারেনি।

চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ ওবায়েদুল্লাহ্ বলেন, ছেলেটির অবস্থা খারাপ। এজন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের কথা জানিয়েছি।

বাদ আসর সোনাগাজীর পারিবারিক কবরস্থানে নুসরাতের দাফন

ফেনীর সোনাগাজী সাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠে বাদ আসর জানাজা হবে মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির। এরপর তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

বুধবার রাতে নুসরাত জাহান রাফির মরদেহ হিমঘরে রাখা হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে পুলিশ স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করবে। এর পর তাকে নেয়া হবে ফেনীর সোনাগাজীতে।

এর আগে, বুধবার রাত ৯টা ৩০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা মারা যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসা কেন্দ্রের আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি।

নুসরাতের চাচা নুরুল হুদা শামীম জানান, পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তাকে দাফন করা হবে। বাদ আসর সোনাগাজী সাবের পাইলট হাইস্কুল মাঠে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা তার কক্ষে ডেকে নিয়ে রাফিকে যৌন হয়রানি করেন। এ অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে রাজি না হওয়ায় তার এ করুণ পরিণতি বলে জানা যায়।

গত ৬ এপ্রিল (শনিবার) সকালে রাফি আলিম পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসায় যান। এ সময় মাদরাসার এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারধর করছে- এমন সংবাদ দিলে তিনি ওই বিল্ডিংয়ের চার তলায় যান।

সেখানে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন তাকে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলার বিরুদ্ধে মামলা ও অভিযোগ তুলে নিতে চাপ দেয়। রাফি অস্বীকৃতি জানালে তারা তার গায়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।

এদিকে রাফির ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সোমবার রাতে এজাহারে অধ্যক্ষ এসএম সিরাজ উদ দৌলা সহ ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন। অন্য আসামীরা হলেন পৌর কাউন্সিলর মাকসুল আলম, প্রভাষক আবছার উদ্দিন, মাদরাসা শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন শামীম, সাবেক ছাত্র নূর উদ্দিন, জাবেদ হোসেন, জোবায়ের আহম্মদ ও হাফেজ আবদুল কাদের।

ইতিমধ্যে ওই মামলার তিন আসামী সহ অন্তত ১১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা সহ ৭ জনকে রিমান্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া তাকে ওই মাদরাসার অধ্যক্ষ পদ থেকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। কর্তব্য অবহেলার অভিযোগে সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. মোয়াজ্জেম হোসেনকেও প্রত্যাহার করা হয়। মামলাটি তদন্তের জন্য পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়েছে।