ভাইরাল হওয়া সেই ‘বীর শিশু’ নাঈমকে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা করলো সিলেটের এক…..

785

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর থেকে নাঈম নামের একটি শিশুর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশংসা কুড়াচ্ছে। ছবিতে দেখা যায়, আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহৃত একটি পাইপের ফাটা অংশ দুই হাত ও পায়ের সাহায্যে পলিথিন পেঁচিয়ে চেপে ধরে আছে। ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ওই ছেলে এখন বীর বনে গেছে। এবার এই ‘বীর শিশু’ নাঈমকে ৫ হাজার ডলার পুরস্কার ও তার পড়াশোনার খরচ বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন সিলেটের গোপালগঞ্জ উপজেলার বাদেশ্বর গ্রামের বাসিন্দা যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ওমর ফারুক সামি। তিনি সিলেটের মদন মোহন কলেজ থেকে ইন্টার ও লিডিং ইউনির্ভাসিটি থেকে বিবিএ করে আমেরিকার বুস্টন যান। সেখানেই তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পুরস্কার ঘোষণাকারী সিলেটের যুবক ওমর ফারুক সামি জানান, আমি নাঈমের কাজে খুশি হয়ে এই পুরস্কার দিচ্ছি। এই ছোট্ট শিশু মানবিকতার যে উদারণ সৃষ্টি করেছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। তিনি বলেন, আমি জেনেছি নাঈম খুব কষ্ট করে লেখাপড়া করছে। সে পুলিশ অফিসার হতে চায়। তার ইচ্ছাপূরণ করতে আজ থেকে নাঈমের পড়ালেখার দায়িত্ব নিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে তার উপহারের পাঁচ হাজার ডলারও প্রদান করব।’ এই বিষয়ে নাঈমের পরিবারের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলাপ হয়েছে বলেও জানান সামি। উল্লেখ্য, শিশু নাঈম ইসলাম কড়াইল বস্তি এলাকার বৌ বাজারের রুহুল আমীনের ছেলে। বৌ বাজারের আনন্দ স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাইম অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাইপের লিকেজে পলিথিন পেঁচিয়ে ধরে বসেছিল। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে সামাজিক মাধ্যমে সেই ছবিটি ভাইরাল হয়েছে। প্রশংসায় ভাসছে সে। এই ছবির সূত্র ধরেই সামি এই গোলাপগঞ্জের তরুণ তাকে পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন।

## এফ আর টাওয়ারে অনেক মূল্যবান সম্পদ আছে : ফায়ার সার্ভিস, রাজধানীর বনানীতে অগ্নিকাণ্ডের শিকার এফ আর টাওয়ারের ভেতরে অনেক মূল্যবান সম্পদ রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ। এই সম্পদগুলো দ্রুত উদ্ধার করা হবে বলেও জানানো হয়। আজ শুক্রবার সকালে ফায়ার সার্ভিসের নয়টি টিম পুরো ভবন তল্লাশি করে। তল্লাশি শেষে সকাল ১০টায় ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইনচার্জ শাহাজান শিকদার এনটিভি অনলাইনকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। শাহাজান শিকদার এনটিভি অনলাইনকে জানান, ‘ভবনের ভেতরের প্রতিটি ফ্লোরে আমাদের ফায়ার সার্ভিসের নয়টি টিম ঘুরে ঘুরে দেখেছে। কোথায় কী সম্পদ আছে, তাও দেখেছে। আমরা অনুসন্ধান করে দেখেছি, ভবনের ভেতরে প্রচুর মূল্যবান সম্পদ রয়েছে। এখানে মানি এক্সচেঞ্জের অফিস আছে। সেখানে আমরা ডলারের বান্ডিল পেয়েছি, রিয়ালের বান্ডিল পেয়েছি। সেখানে আরো অনেক বিদেশি অর্থ থাকতে পারে। এ ছাড়া এখনো সেখানে বহু কম্পিউটার চালু অবস্থায় রয়েছে।’ ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইনচার্জ আরো জানান, ‘অনেক দামি দামি সম্পদ আছে ভবনের ভেতরে। সেখানে অনেক অফিস ছিল। সেসব অফিসের ভেতরে যা যা ছিল, সবই আমরা দেখে শনাক্ত করেছি। যেটি যে অবস্থায় ছিল, সেটি সে অবস্থায় আছে। এ বিষয়গুলো আমরা ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদকে জানিয়েছি। ডিসিসহ ভবনের মালিক অথবা এখানে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছিল এমন লোকদের সঙ্গে নিয়ে আমরা আবার ভবনে ঢুকব। তখন সব সম্পদই আমাদের জিম্মায় নেওয়া হবে।’ গতকাল দুপুরে বনানীর ২২ তলা ভবনটিতে আগুন লাগে। আগুনের ঘটনায় আটকা পড়েন অনেকে। আগুন নিয়ন্ত্রণ ও আটকেপড়াদের উদ্ধারে কাজ করেন ফায়ার সার্ভিস, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভবনের আট ও নয়তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত। এর পরই একের পর লাশ বের করে আনা হয়। রাতে পুলিশের পক্ষ থেকে ২৫ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে ১৯ জনের লাশ উদ্ধারের কথা গণমাধ্যমে জানানো হয়। পরে আজ সকালে ২৫ জনের লাশের তথ্য নিশ্চিত হওয়া যায়।
সকালে ডিএমপির গুলশান জোনের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ আজ সকালে এফ আর টাওয়ারের সামনে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় ২৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সবার লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২৪ জনের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি একজনের লাশ ঢাকা মেডিকেলে আছে। তাঁকেও শনাক্ত করা হয়েছে। সেটিও হস্তান্তর করা হবে।’