‘লাফ দিয়োনা’ : ভীতদের বাঁচাতে পাশের বিল্ডিংয়ের অভিনব পদক্ষেপ

747

রাজধানীর বনানীতে এফআর টাওয়ার নামের ২২ তলা একটি ভবনে আগুন লেগেছে। এফ আর টাওয়ার নামে ওই ভবনটিতে আটকা পড়েছেন অনেকে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিস।

উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছিল নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরাও। আটকা পড়াদের সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। এফআর টাওয়ারে আগুন থেকে বাচাঁতে আশপাশের অফিসের কর্মী ও উৎসুখ জনতা কাগজে ‘লাফ দিয়ো না’ বলে তাদের সান্তনা দেয়ার চেষ্টা করেন।

বুধবার দুপুরে আগুল লাগার পর থেকেই বনানীর কামাল আতার্তুক এভিনিউর সকল অফিসের কর্মীরা রাস্তায় নেমে আসে এবং বন্ধু ও সজনদের খোজঁ খবর নেয়ার চেষ্টা করেন।

আবার অনেকেই ফায়ার সার্ভিসে ফোন দিয়ে খুব দ্রুত আসার অনুরোধ জানান। দুর্ঘটনা থেকে বাচাতে সড়কে সকল যান চলাচল বন্ধ রাখতে এবং অন্য রুট ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন কলেজের ছত্র-ছাত্রী ট্রাফিকের ভুমিকা পালন করেছে পাশাপাশি এম্বুলেন্স , ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী যাতে বাধাহীন ভাবে চলাচল করতে পারে সেজন্য দলবদ্ধভাবে শৃঙ্খলার কাজ করছিল।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি ছিল সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা। ফায়ার সার্ভিস জানায়, ভবনের নয়তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত।

লাশটি অ্যাম্বুলেন্সে উঠানোর সময় তার ফোনটি বেজে উঠে

বনানীর এফ আর টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এখন চলছে উদ্ধার কাজ। ভেতর থেকে আহত ও নিহতদের লাশ উদ্ধার করছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে যখন একটি লাশ উদ্ধার করে অ্যাম্বুলেন্সে উঠানো হচ্ছিল তখনো তার ফোনটি বেজে উঠে।

ফোন কলের উত্তর কী হবে তা জানাতে দ্বিধান্বিত হলেও ফায়ার সাভির্সের উর্ধতন কর্মকতা ভারী কণ্ঠে ওপাশে থাকা আত্মীয়কে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেন। পরে লাশটি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশটি মর্গে পাঠান।

এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে বনানী এফ আর টাওয়ারের সামনে ও হাসপাতালগুলোতে স্বজনদের ভিড় বাড়ছে। তারা সবার ভিড়ের মাঝে খুঁজছেন প্রিয় মানুষটিকে।এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত সাতজন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এদের মাঝে একজন শ্রীলঙ্কার নাগরিক।নিহত ব্যক্তিরা হলেন পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), আমেনা ইয়াসমিন (৪০), মামুন (৩৬), শ্রীলঙ্কার নাগরিক নিরস চন্দ্র, আবদুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মাকসুদুর (৬৬) ও মনির (৫০)।

বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে একটার দিকে এফ আর টাওয়ারের ৯ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন লাগার পর এফ আর টাওয়ার ও পাশের বিল্ডিংগুলো থেকে নামতে গিয়ে অনেকেই আহত হন। এছাড়া অনেকে বিল্ডিং থেকে লাফ দিয়ে নিচে পড়ে আহত হয়েছেন।

সারি সারি বের করা হচ্ছে মরদেহ

রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারে লাগা আগুন সন্ধ্যার দিকে নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এর পরপরই ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে একে একে পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো বের করে আনতে থাকেন ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল।

সরেজমিনে দেখা যায়, সন্ধ্যায় আগুন প্রায় নিভে যায়। এসময় ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন বাহিনীর উদ্ধারকারী দল ভবনের ভেতর প্রবেশ করে তল্লাশি শুরু করে। এক পর্যায়ে সাত, আট ও নয় তলায় পুড়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি মরদেহ খুঁজে পায় তারা। পরে সেগুলো বের করে আনা হয়।

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক (ডিডি) দিলীপ কুমার ঘোষ জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে উদ্ধারকাজ চলছে। ভবনে কেউ জীবিত অথবা মৃত অবস্থায় আটকা পড়ে আছে কি না- তা অনুসন্ধানে উদ্ধার টিম কাজ করছে।

এদিকে গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) আব্দুল আহাদ নিহত ছয়জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন। নিহতরা হলেন- পারভেজ সাজ্জাদ (৪৭), মামুন (৩৬), আমিনা ইয়াসমিন (৪০), আব্দুল্লাহ আল ফারুক (৩২), মনির (৫০) ও মাকসুদুর (৩৬)।

জানা গেছে, ঢামেকে নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল্লাহ আল ফারুক এবং কুর্মিটোলায় নিহতের নাম নিরস ভিগ্নে রাজা (৪০)। কুর্মিটোলায় নিহত রাজা শ্রীলঙ্কার নাগরিক এবং স্কেন ওয়েল লজিস্টিকসের ম্যানেজার পদে কর্মরত ছিলেন। তবে ইউনাইটেড হাসপাতালে নিহত তিনজনের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

ঢামেক ক্যাম্প পুলিশের ইনচার্জ এসআই বাচ্চু জানান, বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটের দিকে আব্দুল্লাহ আল ফারুক মারা যান। তাকে অজ্ঞান অবস্থায় ঢামেকে আনা হয়। হাসপাতালে আনার পরও তার জ্ঞান ফেরেনি।

এর আগে, বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে বনানীর কামাল আতাতুর্ক অ্যাভিনিউয়ের ১৭ নম্বর রোডের এসআর টাওয়ারে ২২তলা ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিট দীর্ঘক্ষণ কাজ করার পর বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।