বিমানবন্দরে প্রধান বিচারপতিকে কোট খুলতে বলায় তুলকালাম

1338

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অভ্যন্তরীণ টার্মিনালে এন্টিহাইজ্যাকিং গেটে নিরাপত্তা তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে অনুরোধ করায় উত্তেজিত হয়ে প্রধান বিচারপতির প্রটোকলে থাকা কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, বুধবার (২৭ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকা থেকে যশোর যাওয়ার জন্য বিমানবন্দরে আসেন প্রধান বিচারপতি। এ সময় তার সঙ্গে প্রটোকল অফিসার ও অন্যান্য কর্মকর্তারা ছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা প্রধান বিচারপতিকে তার গায়ের কোটটি ‍খুলে স্ক্যানিং মেশিনে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। প্রধান বিচারপতি কোট খুলতে গেলে পেছন থেকে তার প্রোটোকল অফিসাররা তার পরিচয় জানালে প্রক্রিয়াটি চটজলদি সম্পন্ন করেই তাকে ভেতরে যেতে দেওয়া হয়। সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে নভোএয়ারের সেই ফ্লাইটটি ঢাকা ছেড়ে যায়।

প্রধান বিচারপতি চলে যাওয়ার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তাকর্মীরা কেন তাকে কোট খুলতে বলেছিল এই প্রসঙ্গ টেনে সেখানে হইচই শুরু করেন তার প্রোটোকল অফিসাররা। এ নিয়ে এভিয়েশন সিকিউরিটি অফিসার ও প্রধান বিচারপতির প্রটোকল অফিসারদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে সহকারী পুলিশ সুপার পদ মর্যাদার একজন এভিয়েশন সিকিউরিটি অফিসারসহ অন্যদের বকাঝকা শুরু করেন প্রধান বিচারপতির প্রটোকলে থাকা তিন কর্মকর্তা। এভিয়েশন সিকিউরিটিতে প্রেষণে যুক্ত হওয়া একজন সহকারী পুলিশ সুপারের গলায় ঝোলানো আইডি কার্ড ধরে টানাটানিও শুরু করেন তারা।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি বিব্রতকর আমাদের জন্য। মাননীয় প্রধান বিচারপতি চলে যাওয়ার পর তার সঙ্গে আসা কর্মকর্তারা বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। গালাগাল করেছেন, যা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

তিনি জানান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা আইনের প্রতিটি বিষয় রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী ছাড়া দেশের প্রত্যেক নাগরিককের জন্যই প্রযোজ্য। তাই প্রধান বিচারপতিকেও নিরাপত্তা কর্মীরা কোট খুলতে বলেছিলেন। তিনি নিজেও কোনও আপত্তি করেননি। তার প্রোটোকল অফিসাররাই এ বিষয়ে প্রথমে আপত্তি করেন ও তিনি চলে যাওয়ার পরে হইচই শুরু করেন।

খারাপ ব্যবহার করার কথা অস্বীকার করেছেন প্রধান বিচারপতির প্রোটোকল অফিসাররা।