সুবানাআল্লাহ!যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে নামাজের সময় অমুসলিমরা পাহারা দিচ্ছে, দেখুন…..

162

অমুসলিমরা পাহারা দিচ্ছে- যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি মসজিদে নামাজের সময় মুসলিমদের পাহারা দিতে দেখা গেছে অমুসলিমদের। দেশটির স্থানীয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে এ নিয়ে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া মসজিদে নামাজ চলাকালীন অমুসলিমদের পাহারা দেয়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আর এমন উদ্যোগের প্রশংসা করছেন দেশটির অনেক নাগরিক। প্রতিষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এ নিয়ে কোনো বিস্তারিত সংবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় অনেক গণমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, মসজিদে অমুসলিমদের পাহারা দেয়ার এমন ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে একটি মসজিদে। কিরি বেলডন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গত শনিবার নামাজ চলাকালীন সেখানকার এক মসজিদের সামনে তিনি একটি মানববন্ধন দেখতে পান। মানববন্ধনটি তৈরি করেছে অমুসলিমরা। মসজিদে যাতে মুসল্লিরা নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারে তাই এমন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

দিতিয়া ডেন্স নামে এক টুইটার ব্যবহারকারী সেই মানববন্ধনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন, নিউজিল্যান্ডে দুটি মসজিদে নামাজরত অবস্থায় অর্ধশত মুসল্লিকে হত্যার পর মুসলিমদের নিরাপত্তার কেতা ভেবে এমন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিউজিল্যান্ডে হামলার ঘটনার পর থেকে সেখানকার মসজিদে যখনই নামাজ শুরু হয় তখন মসজিদের বাইরে অমুসলিমরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে থেকে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। তিনি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘চলুন শান্তি আর ভালোবাসা সবার মাঝে ছড়িয়ে দেই।’ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সংবাদে আরও জানানো হয়, ওই অঞ্চলটিতে দীর্ঘদিন ধরেই মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদিরা সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে আসছেন। তারা একে অপরকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে থাকেন। এমনকি তাদের এই সম্পর্কটার নামই হয়ে গেছে ফেইথ ট্রাইও বা বিশ্বাসের ত্য়ী।

‘কেউ তুরস্কে হামলা চালালে কফিন নিয়ে ফিরতে হবে’ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান বলেছেন, তুরস্কের ওপর সম্ভাব্য হামলার অংশ হিসেবে নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলা হয়েছে। তবে কেউ যদি তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরে হামলার চেষ্টা করে তাহলে হামলাকারীদের কফিন ফেরত পাঠানো হবে। নিউজিল্যান্ডের মসজিদে হামলার বিষয়ে এরদোগান দেশটির সরকারের প্রতি সিরিজ তদন্তের আহ্বান জানান।

গত শুক্রবার জুমা নামাজের সময় ব্রেনটন টেরেন্ট নামে এক উগ্র খ্রিস্টান সন্ত্রাসী ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে গুলি চালিয়ে অন্তত ৫০ মুসল্লিকে হত্যা করে। এর আগে ওই সন্ত্রাসী একটি মেনিফেস্টো পাঠায় যাতে তুরস্কের ইস্তাম্বুল শহরকে খ্রিস্টানদের সম্পত্তি বলে উল্লেখ করে তা তুরস্কের হাত থেকে উদ্ধারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এছাড়া, তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে ‘যুদ্ধবাজ’ নেতা বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে এতে।
তুরস্ককে খ্রিস্টানদের সবচেয়ে পুরনো শত্রু বলেও উল্লেখ করা হয়েছে ওই মেনিফেস্টোতে। এতে ইস্তাম্বুলকে লক্ষ্য করে বলা হয়- “আমরা কনস্টান্টিনোপলে আসছি এবং শহরের প্রতিটি মসজিদ ও মিনার ধ্বংস করব। হাজি সোফিয়াকে মিনার থেকে মুক্ত করা হবে এবং কনস্টান্টিনোপল আবারো খ্রিস্টানদের দখলে আসবে।” ১৯১৫ সালে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কানাক্কালে প্রদেশে অটোমান সেনাদের হাতে ব্রিটিশ সেনাদের পরাজয়ের বার্ষিকী স্মরণে আয়োজিত এক সমাবেশে গতকাল (সোমবার) বক্তব্য দেন এরদোগান। ১৯১৫ সালের ওই যুদ্ধে ব্রিটেনের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের সেনারাও অংশ নেয়। সমাবেশে এরদোগান বলেন, “আমরা এখানে হাজার বছর ধরে আছি এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকব ইনশাল্লাহ। তোমরা ইস্তাম্বুলকে কনস্টান্টিনোপলে পরিণত করতে পারবে না। তোমাদের দাদারাও এসেছিল এবং লাশ হয়ে ফেরত গেছে। কোনো সন্দেহে নেই তোমাদেরকেও আমরা লাশ বানিয়ে ফেরত পাঠাব।” গত শুক্রবারের হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এরদোগান নিউজিল্যান্ড সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমরা আশা করি নিউজিল্যান্ড সরকার বিষয়টিকে গুরুত্বসহকারে নেবে। তারা যেন পশ্চিমা দেশগুলোর মতো হাল্কাভাবে না নেয়।” গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে এরদোগান বলেন, নিউজিল্যান্ডের ঘাতক ২০১৬ সালে দুইবার তুরস্ক সফর করেছে।

**শহীদদের লাশ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে নিউজিল্যান্ড**

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ কতৃপক্ষ গত শুক্রবারের দেশটির ‍দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় শহীদদের লাশ প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। ভয়েস অফ আমেরিকার বরাতে জানা যায়, শহীদদের সবার লাশ পরীক্ষার পর কেবল ১২ জনকেই সঠিকভাবে সনাক্ত করা গেছে। ৬ জনের মরদেহ ইতোমধ্যেই আত্মীয়-স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ আরও জানিয়েছে, হস্তান্তরণ প্রক্রিয়া সহজ মনে হলেও তা যথা সম্ভব কঠিন। বিশেষ করে বর্তমান ঘটনার পরিস্থিতির বাস্তবতার নিরিখে। নিহতদের পরিচয়ের প্রাথমিক একটা তালিকা আত্মীয়-স্বজনের কাছে তুলে ধরা হয়েছে। জানা যায়, ৬০ জন স্বেচ্ছাসেবী পৌঁছেছেন অস্ট্রেলিয়া থেকে। তারাই অন্যদের সঙ্গে মিলে গোসল, কাফন, দাফনসহ মরদেহ কবরস্থ করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। মঙ্গলবার সংসদে, ভাবাবেগ আপ্লুত ভাষণে নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা অর্ডান সংশ্লিষ্ট বন্দুকধারী সন্ত্রাসীর কথা উল্লেখে করে বলেন, সে একজন সন্ত্রাসী এবং উগ্রপন্থী। তিনি সন্ত্রসীর প্রতি ঘৃণা প্রকাশ করে বলেন, আমি তার নামটাও মুখে আনতে চাই না। আমি বিনয় সাথে অনুরোধ জানাচ্ছি যারা হারিয়ে গেলেন তাদের স্বরণ করুন। যে এ ঘৃণ্য কর্মকাণ্ড ঘটিয়েছে তাকে নয়।