2019 সালে স্বাধীন মুসলিম দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে ফিলিপাইনের বাংসামরো

658

দীর্ঘ সংগ্রামের পর পূর্ব এশিয়ার দেশ ফিলিপাইনের মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মিন্দানাও দ্বীপপূঞ্জের অধিবাসীরা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারনের জন্য সুযোগ পাচ্ছে। গতবছর কেন্দ্রীয় সরকার ও মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের মধ্যকার সাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী বাংসামরো স্বায়িত্বশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তারা কেন্দ্রীয় সরকারের শাসন থেকে অনেকাংশে স্বাধীন হয়ে নিজেদের জন্য পৃথক একটি শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার দিকে অগ্রসর হচ্ছে।প্রাথমিকভাবে একটি ক্ষুদ্র অংশের উপর বাংসামরো স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের শাসন প্রতিষ্ঠিত হলেও পরবর্তীতে অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীরা ইচ্ছা করলে এর সাথে যোগ দিতে পারবে।ইতোমধ্যে গত ২১শে জানুয়ারী, বাংসামরোর প্রশ্নে প্রথম দফা গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২৫ তারিখ প্রকাশিত ফলাফলে ৮৮ শতাংশ ভোটে প্রস্তাবটি বিজয়ী হয়। আগামী ৫ই ফেব্রুয়ারী দ্বিতীয় দফায় গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।এই গণভোটের মাধ্যমে বাংসামরো স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দিকে ফিলিপাইনের মিন্দানাওয়ের মুসলমানরা আরও একধাপ অগ্রসর হল। পাশাপাশি এশিয়ার দীর্ঘসময়ের এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের অবসান হল। মিন্দানাওয়ের মুসলমানরা এর মাধ্যমে অধিক ক্ষমতা লাভ করেছে এবং তারা অধিক স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের দিকে অগ্রসর হয়েছে।

এখন এক নজরে দেখা যাক, বাংসামরো স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলের শাসনব্যবস্থা কিরূপে গঠিত হবে। সরকার ব্যবস্থা: বাংসামরো এখন থেকে ৮০ সদস্য বিশিষ্ট একটি সংসদ দ্বারা শাসিত হবে, যারা স্থানীয় জনগনের দ্বারা নির্বাচিত হবে। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন মূখ্যমন্ত্রী এবং তার দুইজন সহকারীর নেতৃত্বে মন্ত্রীসভা গঠিত হবে। এছাড়া মূখ্যমন্ত্রীর উপরে একজন ‘ওয়ালী’ থাকবেন, আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া যার আর কোন ক্ষমতা থাকবেনা।
বিচার ব্যবস্থা: বাংসামরোর বিচার ব্যবস্থা তিনটি ভাগে পরিচালিত হবে। একটি হল শরীয়া আইন যা মুসলমানদের উপর প্রযোজ্য হবে, দ্বিতীয়তটি গোত্রীয় বিচার ব্যবস্থা যা আদিবাসী ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে এবং জাতীয় আইন অনুযায়ী সরকারী আদালত, যা অমুসলিম নাগরিকদের আইনি চাহিদায় ব্যবহৃত হবে।
বাজেট:স্থানীয় সরকারের হাতে বাংসামরো থেকে উত্তোলিত করের উপর অধিক নিয়ন্ত্রণ থাকবে। উত্তোলিত করের ৭৫ শতাংশ স্থানীয় সরকারের হাতে থাকবে এবং পঁচিশ শতাংশ কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঠানো হবে।

নিরাপত্তা ব্যবস্থা: কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে নিরাপত্তার বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে ন্যাস্ত থাকবে। স্বাধীনতাকামী মরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের সশস্ত্র সদস্যদের নিরস্ত্র হয়ে যেতে হবে। তবে তারা ইচ্ছা করলে স্থানীয় পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করতে পারবে।
প্রাকৃতিক সম্পদ: স্থানীয় সরকারের হাতে বাংসামরোর প্রাকৃতিক সম্পদের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকবে। এই সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ ও ব্যবহারে তারা মূখ্য ভূমিকা পালন করবে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মত জাতীয় যৌথ স্বার্থের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক সম্পদ কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।মিন্দানাওয়ের কিছু অংশে মুসলমানদের স্বায়ত্বশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার সংগ্রামের বৃহত্তর লক্ষ্য পূর্ণ হতে যাচ্ছে। তবে এর মাধ্যমে অঞ্চলটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টি নিশ্চিতের জন্য আরও অধিক পর্যবেক্ষণের অপেক্ষা করতে হবে।